শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কীভাবে কাজ করে এই পয়েন্ট-ভিত্তিক ব্যবস্থা?

পর্তুগালের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট হারালে লাইসেন্সও হারাতে পারেন!

পর্তুগাল প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৪:১৬ এম
পর্তুগালের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট হারালে লাইসেন্সও হারাতে পারেন!

পর্তুগালে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেই দায়িত্ব শেষ নয়। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটিতে চালু রয়েছে একটি পয়েন্ট-ভিত্তিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবস্থা, যার আওতায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে চালকের পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, পুনরায় পরীক্ষা এমনকি লাইসেন্স বাতিল হওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।

বিশেষ করে প্রবাসী চালকদের জন্য এই ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। কারণ অনেকেই জানেন না, একটি বা দুটি গুরুতর ভুলের কারণে ধীরে ধীরে পয়েন্ট কমতে কমতে একসময় ড্রাইভিং লাইসেন্সই হারিয়ে যেতে পারে।

১২ পয়েন্ট দিয়ে যাত্রা শুরু

২০১৬ সালের ১ জুন থেকে পর্তুগালে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক চালককে শুরুতে ১২ পয়েন্ট দেওয়া হয়। দেশের সড়ক নিরাপত্তা সংস্থা এএনএসআর (Autoridade Nacional de Segurança Rodoviária) এবং অটোমোবাইল ক্লাব অব পর্তুগাল (ACP)-এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাফিক আইন মেনে চললে এই পয়েন্ট অক্ষুণ্ন থাকে। তবে গুরুতর আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো চালকদের আরও দায়িত্বশীল করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা।

কোন অপরাধে কত পয়েন্ট কাটা হয়?

পর্তুগিজ ট্রাফিক আইনে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী পয়েন্ট কর্তনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গুরুতর (Contraordenação Grave) লঙ্ঘন

  • ২ বা ৩ পয়েন্ট কাটা হয়।

অত্যন্ত গুরুতর (Contraordenação Muito Grave) লঙ্ঘন

  • ৪ বা ৫ পয়েন্ট কাটা হয়।

সড়ক ট্রাফিক অপরাধ (Crime Rodoviário)

  • ৬ পয়েন্ট পর্যন্ত কাটা হতে পারে।

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং বা সড়কে অন্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলার মতো অপরাধগুলো সাধারণত সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট কর্তনের কারণ হয়ে থাকে।

পয়েন্ট কমে গেলে কী হয়?

অনেকেই মনে করেন পয়েন্ট হারানো মানে শুধু একটি প্রশাসনিক শাস্তি। বাস্তবে এর প্রভাব অনেক বেশি।

৪ পয়েন্ট অবশিষ্ট থাকলে
চালককে বাধ্যতামূলকভাবে একটি সড়ক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে হবে।

২ পয়েন্ট অবশিষ্ট থাকলে
চালককে পুনরায় তাত্ত্বিক (থিওরি) পরীক্ষা দিতে হবে।

পয়েন্ট শূন্য হয়ে গেলে
ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায় এবং সাধারণত দুই বছর পর্যন্ত নতুন লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ থাকে না। পরে আবার নতুন করে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

অর্থাৎ, পয়েন্ট শূন্যে পৌঁছানো মানেই কার্যত ড্রাইভিং অধিকার হারানো।

হারানো পয়েন্ট কি ফেরত পাওয়া যায়?

সুখবর হলো, ভালো আচরণের মাধ্যমে পয়েন্ট পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে।

যদি কোনো চালক টানা তিন বছর (পেশাদার চালকদের ক্ষেত্রে দুই বছর) কোনো গুরুতর বা অত্যন্ত গুরুতর ট্রাফিক অপরাধ না করেন, তাহলে তিনি অতিরিক্ত ৩ পয়েন্ট অর্জন করতে পারেন।

এর ফলে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংখ্যা ১৫ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এছাড়া লাইসেন্স নবায়নের সময় যদি চালকের বিরুদ্ধে কোনো ট্রাফিক অপরাধ না থাকে এবং তিনি স্বেচ্ছায় একটি সড়ক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে আরও ১ অতিরিক্ত পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ থাকে।

এভাবে একজন চালক সর্বোচ্চ ১৬ পয়েন্ট পর্যন্ত অর্জন করতে পারেন।

কেন এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র জরিমানা অনেক সময় চালকদের আচরণ পরিবর্তনে যথেষ্ট নয়। কিন্তু যখন একজন চালক জানেন যে প্রতিটি গুরুতর ভুল তার ড্রাইভিং অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবেই আরও সতর্ক হন।

পর্তুগালের পয়েন্ট-ভিত্তিক ব্যবস্থা মূলত শাস্তির চেয়ে সচেতনতা ও প্রতিরোধকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ভালো চালকদের পুরস্কৃত করা এবং বারবার আইন ভঙ্গকারীদের সড়ক থেকে দূরে রাখাই এর প্রধান লক্ষ্য।

কীভাবে নিজের পয়েন্ট ব্যালেন্স দেখবেন?

আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সে বর্তমানে কত পয়েন্ট রয়েছে, তা অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব।

এজন্য Condutor Portal বা সরকারি ড্রাইভার সেবার পোর্টালে লগইন করতে হবে।

প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা যাবে—

  • Chave Móvel Digital (CMD)
  • Cartão de Cidadão
  • অথবা পূর্বনিবন্ধিত ব্যবহারকারীদের জন্য NIF ও অ্যাক্সেস পাসওয়ার্ড

নিয়মিত নিজের পয়েন্ট ব্যালেন্স পরীক্ষা করা ভালো অভ্যাস, কারণ অনেক চালকই জানেন না যে তাদের পয়েন্ট ইতোমধ্যে বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে এসেছে।

প্রবাসী চালকদের জন্য সতর্কবার্তা

পর্তুগালে বসবাসরত অনেক বিদেশি নাগরিক পেশাগত বা পারিবারিক কারণে প্রতিদিন গাড়ি ব্যবহার করেন। কিন্তু ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা বা অসচেতনতা কখনোই আইনি দায় থেকে মুক্তি দেয় না। একটি গুরুতর ট্রাফিক অপরাধ শুধু জরিমানাই নয়, ভবিষ্যতে চাকরি, ব্যবসা বা দৈনন্দিন চলাচলের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই সড়কে সতর্ক থাকুন, গতিসীমা মেনে চলুন এবং মনে রাখুন—পর্তুগালে ড্রাইভিং লাইসেন্স শুধু একটি কার্ড নয়; এটি পয়েন্টের ওপর নির্ভরশীল একটি অধিকার। আর সেই পয়েন্ট ফুরিয়ে গেলে লাইসেন্সও হারিয়ে যেতে পারে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক