পর্তুগালে ঈদুল আজহার বৃহৎ জামাতে প্রবাসীদের উচ্ছ্বাস
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে খোলা আকাশের নিচে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল আজহার বৃহৎ জামাত। শহরের মারতিম মুনিজ পার্কে আয়োজিত এ জামাতে একসঙ্গে অংশ নেন কয়েক হাজার মুসল্লি। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ছয় থেকে সাত হাজারের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান ঈদের নামাজ আদায় করেন, যা পর্তুগালে প্রবাসীদের ব্যবস্থাপনায় অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৬ সালের ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোর থেকেই লিসবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মুসল্লিরা ঈদগাহে জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শুরুর আগেই পুরো এলাকা মুসল্লিতে পূর্ণ হয়ে যায়। নানা ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের উপস্থিতি ঈদের এই আয়োজনকে পরিণত করে বহুজাতিক মুসলিম সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায়।
মারতিম মুনিজ জামে মসজিদের সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও পর্তুগাল সরকার এবং লিসবন সিটি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বড় পরিসরে এমন আয়োজন করতে নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ থাকে। তবে কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় প্রশাসন এবং মুসল্লিদের সহযোগিতায় আমরা সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পেরেছি।”
অন্যদিকে বন্দরনগরী পর্তোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে পৃথক তিনটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ছয়টা, সাতটা এবং আটটায় অনুষ্ঠিত জামাতে শত শত মুসল্লি অংশ নেন। বাংলাদেশ কমিউনিটি পর্তোর প্রবাসী বাংলাদেশীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারায় স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
পরিবার থেকে দূরে থাকা বাংলাদেশিরা ঈদের দিন একত্রিত হয়ে যেন খুঁজে পান দেশের আবহ। লিসবন প্রবাসী আনোয়ার খান বলেন, “পরিবার-স্বজন ছাড়া প্রবাসে ঈদ কাটানো সহজ নয়। তবে হাজারো মানুষের সঙ্গে খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজ আদায় করলে মনে হয় আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য।”

নামাজ শেষে মুসল্লিরা পর্তুগালের আইন মেনে নির্ধারিত পশু জবাই কেন্দ্রে গিয়ে কোরবানি সম্পন্ন করেন। অনেকে আবার বাংলাদেশি মালিকানাধীন সুপারশপ ও হালাল মাংস বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে আগাম বুকিং দিয়ে কোরবানির ব্যবস্থা করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, এবার কোরবানিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক বাণিজ্যিক কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে।

এছাড়া লিসবন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্যোগে সকাল ছয়টা থেকে নয়টা নাগাদ আরও তিনটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে আলজেস, কাসকাইস, ওদিভেলাস, আলামেদা, আমাদোরা, আলগারভ, ভিলা নোভা দে মিল ফন্তেস, কোইম্ব্রা, সেতুবাল, বারেইরো, এভোরা, মাদেইরা এবং আজোরেস দ্বীপপুঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্তুগালে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন ও অভিবাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে। কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি পরিবার পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার কারণেও বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৃহৎ পরিসরে ঈদ জামাতের আয়োজন শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং পর্তুগালে বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক উপস্থিতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও প্রতিফলন। প্রবাসীদের এই অংশগ্রহণ বহুসাংস্কৃতিক পর্তুগিজ সমাজে বাংলাদেশিদের অবস্থান আরও দৃশ্যমান করছে।













