ইসরাইলের বিরুদ্ধে পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ
ইইউ-ইসরায়েল চুক্তি আংশিক স্থগিতের পক্ষে পর্তুগাল
ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা বহনকারী নৌবহরে অংশ নেওয়ার কারণে আটক কর্মীদের সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আচরণের একটি ভিডিও প্রকাশের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইসরায়েলের বাণিজ্য চুক্তি আংশিকভাবে স্থগিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে পর্তুগাল। প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিষয়টি ইউরোপীয় পর্যায়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
পর্তুগিজ সরকার জানায়, আটক কর্মীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা “মানব মর্যাদার পরিপন্থী” এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঘটনাটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গাজাগামী একটি মানবিক সহায়তা নৌবহর, যেখানে দুইজন পর্তুগিজ চিকিৎসকও ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি “একেবারেই অগ্রহণযোগ্য” এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পক্ষে পর্তুগাল। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইইউ-ইসরায়েল বাণিজ্য চুক্তির আংশিক স্থগিতাদেশ নিয়ে আলোচনা চলমান এবং আসন্ন বৈঠকে এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন গভিরের আচরণ নিয়ে দেশটির ভেতরেও সমালোচনা দেখা গেছে। এমনকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বলেছেন, ওই আচরণ ইসরায়েলের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে তিনি একই সঙ্গে দাবি করেন, ইসরায়েলের জলসীমা রক্ষার অধিকার রয়েছে এবং গাজাগামী “উস্কানিমূলক” নৌবহর ঠেকানো বৈধ নিরাপত্তা পদক্ষেপ।
পর্তুগালের সম্প্রদায় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এমিদিও সোসা বলেন, ভিডিওতে দেখা দৃশ্যগুলো উদ্বেগজনক এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। তিনি জানান, পর্তুগিজ সরকার নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে।
অন্যদিকে, পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি আটক পর্তুগিজ চিকিৎসকদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের দ্রুত নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা শেষবার আটক হওয়ার আগে যোগাযোগ করেছিলেন এবং এরপর থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাননি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আটক ব্যক্তিরা বর্তমানে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল আছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।













