পর্তুগালের বিমানবন্দরে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন বাড়ছে
শেনজেন অঞ্চলের বাইরের যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা কমাতে পর্তুগালের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে অতিরিক্ত ৩৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির জননিরাপত্তা পুলিশ। জুলাই মাসের শুরু থেকেই নতুন কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন শুরু করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পর্তুগিজ জননিরাপত্তা পুলিশ (পিএসপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৬০ জন এজেন্টের একটি বড় অংশকে বিমানবন্দর নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তারা ২৮ মে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শেষ করার পর অতিরিক্ত চার সপ্তাহের সীমান্ত নিরাপত্তা কোর্স সম্পন্ন করবেন।
পিএসপি মুখপাত্র সার্জিও সোয়ারেস জানান, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে আন্তর্জাতিক যাত্রীর চাপ মোকাবিলা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শেনজেন অঞ্চলের বাইরের যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সমস্যা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নতুন ৩৬০ কর্মকর্তার মধ্যে ১৫০ জনকে লিসবন বিমানবন্দরে মোতায়েন করা হবে। এছাড়া পোর্তো বিমানবন্দরে ৯০ জন, ফারোতে ৭০ জন, আজোরেস অঞ্চলে ৩০ জন এবং মাদেইরায় ২০ জন দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া ২৯ মে থেকে বিমানবন্দরগুলোতে ম্যানুয়াল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বুথের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এর ফলে পাসপোর্ট যাচাই এবং প্রবেশ প্রক্রিয়ায় গতি বাড়বে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও সংযোগ সমস্যাও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিএসপি জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত ৫জি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের পাশাপাশি স্থায়ী ফিক্সড নেটওয়ার্ক সংযোগ যুক্ত করা হবে, যাতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত বিঘ্ন কমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটক ও আন্তর্জাতিক যাত্রীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় পর্তুগালের বিমানবন্দরগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লিসবন ও পোর্তো বিমানবন্দরে দীর্ঘ সারি এবং বিলম্ব নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ বাড়ছিল। নতুন এই জরুরি পরিকল্পনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।













