শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হান্টাভাইরাস আতঙ্কে স্পেন: তিনজনের মৃত্যু, নজরদারিতে শতাধিক মানুষ

মিরন নাজমুল প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৪:৫১ এম
হান্টাভাইরাস আতঙ্কে স্পেন: তিনজনের মৃত্যু, নজরদারিতে শতাধিক মানুষ

হান্টাভাইরাস সাধারণ মানুষের কাছে এতদিন প্রায় অজানা একটি রোগ ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ দিক থেকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলকারী বিলাসবহুল অভিযাত্রী জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসকে ঘিরে যে সংক্রমণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আর্জেন্টিনা, স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আরও কয়েকটি দেশ একযোগে এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কাজ করছে।

এমভি হন্ডিয়াস নামের ডাচ পতাকাবাহী এই জাহাজটি মার্চের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে বিভিন্ন দেশের প্রায় দেড় শতাধিক যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। যাত্রাপথে এটি অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ আটলান্টিকের কয়েকটি দ্বীপ এবং পরে কেপ ভার্দের দিকে অগ্রসর হয়।

বর্তমান তদন্ত অনুযায়ী, সংক্রমণের সূচনা হয়েছিল এক ডাচ দম্পতির মাধ্যমে। তারা আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়ে ভ্রমণের সময় পাখি পর্যবেক্ষণ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, উশুয়াইয়ার একটি বর্জ্য ফেলার স্থানে ভাইরাসবাহী ইঁদুরের সংস্পর্শে এসে তারা আক্রান্ত হন। এরপর তারা এমভি হন্ডিয়াসে ওঠেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি এপ্রিলের শুরুতে অসুস্থতা অনুভব করেন। পরে জাহাজেই তার মৃত্যু হয়। শুরুতে মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক শ্বাসযন্ত্রজনিত জটিলতা বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে তার স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেওয়া হলেও সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরে আরও কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত আটজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে পাঁচজনের শরীরে হান্টাভাইরাস নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, পরিস্থিতি গুরুতর হলেও সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনও “নিম্নমাত্রার” রয়েছে।

এই প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে শনাক্ত হয়েছে “অ্যান্ডিজ” ধরনের হান্টাভাইরাস। এটি ভাইরাসটির একমাত্র পরিচিত ধরন, যা সীমিত আকারে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। তবে এ সংক্রমণ সাধারণত দীর্ঘসময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যেমন পরিবার বা একই কেবিনে থাকা যাত্রীরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল, প্রস্রাব বা লালার মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত ধূলিকণা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ তৈরি হতে পারে। আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, শরীর ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং দ্রুত ফুসফুস বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অ্যান্ডিজ ধরনের মৃত্যুহার কিছু ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

ঘটনা আন্তর্জাতিক মাত্রা পায় যখন জাহাজটি কেপ ভার্দেতে পৌঁছায়। দেশটি যাত্রীদের নামার অনুমতি দেয়নি। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানবিক ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধির আওতায় স্পেনকে সহযোগিতার অনুরোধ জানায়। শুরুতে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের আঞ্চলিক সরকার আপত্তি তুললেও শেষ পর্যন্ত স্পেন সরকার জাহাজটিকে টেনেরিফের কাছে নোঙর করার অনুমতি দেয়।

স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটি সরাসরি বন্দরে ভিড়বে না। প্রথমে জাহাজে থাকা সবাইকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। কেউ উপসর্গহীন থাকলে ছোট ছোট দলে নৌকায় করে তাদের টেনেরিফ বিমানবন্দরে নেওয়া হবে। সেখান থেকে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হবে।

জাহাজে থাকা ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিককে বিশেষ সামরিক চিকিৎসা বিমানে মাদ্রিদের তোরেখোন বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে তাদের সামরিক হাসপাতালে পর্যবেক্ষণ ও কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভাইরাসটির সুপ্তিকাল ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে আরও সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে কয়েকজন যাত্রী বিভিন্ন দেশে ফিরে গেছেন। সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, নেদারল্যান্ডসসহ আরও কয়েকটি দেশে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের গবেষণাগারগুলো যৌথভাবে পরীক্ষা চালাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কয়েকটি দেশে পরীক্ষার সরঞ্জামও পাঠিয়েছে।

আর্জেন্টিনাও নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। উশুয়াইয়া এলাকায় ইঁদুরের মধ্যে ভাইরাসের উপস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ অঞ্চলটিতে আগে কখনও হান্টাভাইরাসের এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি। তবে গত এক বছরে দেশটিতে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি করোনাভাইরাস মহামারির মতো পরিস্থিতি নয়। কারণ হান্টাভাইরাস খুব সহজে বাতাসে ছড়ায় না এবং এর সংক্রমণ সীমিত। তবুও আন্তর্জাতিক সমন্বয়, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

বর্তমানে এমভি হন্ডিয়াসকে ঘিরে যে স্বাস্থ্য সতর্কতা চলছে, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভাইরাসটির বিস্তার সীমিত রাখা গেলেও এটি প্রমাণ করেছে, পৃথিবীর এক প্রান্তে উদ্ভূত সংক্রমণ খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক উদ্বেগে পরিণত হতে পারে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক