শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় রেমিটেন্সযোদ্ধা মনিরের নিথর প্রস্থান এক পরিবারের ভেঙে পড়া স্বপ্নের গল্প

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১২:২৪ এম
মালয়েশিয়ায় রেমিটেন্সযোদ্ধা মনিরের নিথর প্রস্থান এক পরিবারের ভেঙে পড়া স্বপ্নের গল্প

স্বপ্ন ছিল ছোট্ট, কিন্তু দায় ছিল বিশাল। ধার-দেনা করে ২০২২-২৩ সালের কলিং ভিসায় প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় সুদূর মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মোঃ মনির হোসেন (২৮)। পাসপোর্ট নম্বর, ইএল ০৭৫৫৬২৬—এই সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক তরুণের অসংখ্য স্বপ্ন, দায়িত্ব আর ভালোবাসা।

প্রবাস জীবন মানেই সংগ্রাম, আর সেই সংগ্রামের নামই যেন ‘রেমিটেন্সযোদ্ধা’। প্রিয়জনদের ছেড়ে, অজানা এক দেশে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তারা গড়ে তুলতে চান পরিবারের হাসিমুখ। মনিরও ছিলেন সেই স্বপ্নবাজদের একজন। চোখে ছিল বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন, স্ত্রী-সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষা।কিন্তু সব স্বপ্ন কি পূরণ হয়?

গত শনিবার (২ মে) হঠাৎ করেই থেমে যায় মনিরের জীবনের পথচলা। কী কারণে তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন—তা আজও অজানা। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গলায় ফাঁস দিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে ঘটনাস্থলের চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। ঝুলন্ত অবস্থায় নয়, বরং হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় পাওয়া যায় তার নিথর দেহ। এই অস্বাভাবিক দৃশ্য অনেকের মনেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মালয়েশিয়ার কেলাংয়ের দক্ষিণ বন্দরের একটি কোম্পানিতে রাত্রিকালীন প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন মনির। প্রতিদিনের মতোই সেদিনও সন্ধ্যায় কর্মস্থলে যান তিনি। সকালে ডিউটিতে এসে এক বাংলাদেশি সহকর্মী তাকে খুঁজতে গিয়ে আবিষ্কার করেন সেই মর্মান্তিক দৃশ্য। নিঃশব্দ, নিথর মনির, যার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল পরিবারের কাছে, কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে।

ঘটনার আরও কিছু দিক রহস্যকে ঘনীভূত করেছে। মনিরের কর্মস্থলের কাছে বসবাসরত একজন ইন্দোনেশীয় দম্পতি ও তিনজন মিয়ানমারের নাগরিক ঘটনার পরপরই নিখোঁজ হয়ে যান বলে জানা যায়। যদিও পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত শেষে তারা আবার কর্মস্থলে ফিরে আসেন, তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়—কেন এই হঠাৎ অন্তর্ধান?

হাসপাতালের ময়নাতদন্তে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করা হলেও, অনেকেই এই মৃত্যুকে ঘিরে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন। তবে মনিরের পরিবার এখন শোকের ভারে ন্যুব্জ। তাদের কাছে উত্তর খোঁজার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রিয়জনকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর অপেক্ষা।

মনিরের বড় ভাই মোঃ কামরুল শেখ, যিনি একই কোম্পানির অন্য একটি সেকশনে কাজ করেন, ইতোমধ্যে ভাইয়ের মরদেহ দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মনিরের নিথর দেহ পাঠানো হবে তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার বনমালিদিয়া মিয়া পাড়ায়।

এই মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবার ও এলাকাজুড়ে। বাবা-মা হারালেন তাদের সম্ভাবনাময় সন্তানকে, স্ত্রী হারালেন জীবনসঙ্গীকে, আর ছোট্ট কন্যাটি হারালো তার সবচেয়ে বড় আশ্রয় তার বাবাকে।

মনিরের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং হাজারো প্রবাসী জীবনের না বলা কষ্টের প্রতিচ্ছবি। স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে কত স্বপ্ন যে নিঃশব্দে ঝরে যায় তার হিসাব কেউ রাখে না।

প্রশ্ন রয়ে যায় এই স্বপ্নভাঙার দায় কার? আর কত মনির হারিয়ে গেলে আমরা থামবো, শুনবো তাদের নীরব আর্তনাদ?

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক