শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশে উমরাহ সেবায় নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠছে Jetway Hajj Umrah Group

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪১ এম
বাংলাদেশে উমরাহ সেবায় নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠছে Jetway Hajj Umrah Group

২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের হজ ও উমরাহ সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে আসছে Jetway Hajj Umrah Group। দেড় দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা, হাজার হাজার সন্তুষ্ট যাত্রী এবং অবিচল সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজ বাংলাদেশের উমরাহ যাত্রীদের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

যাত্রার শুরু ২০০৯ সালে — আস্থার যাত্রা আজও অব্যাহত

ঢাকা, বাংলাদেশ — ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে Jetway Hajj Umrah Group ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত হজ ও উমরাহ এজেন্সিতে পরিণত হয়েছে। গত সতেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার মুসলিম যাত্রীকে পবিত্র উমরাহ পালনে সহায়তা করে আসছে — নিরাপদে, সুশৃঙ্খলভাবে এবং আন্তরিক যত্নের সাথে।

একটি ছোট কিন্তু উদ্যমী ট্রাভেল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু করে, Jetway Hajj Umrah Group আজ বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য হজ ও উমরাহ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। বছরের পর বছর ধরে যাত্রীদের বিশ্বাস ও সন্তুষ্টিই এই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় অর্জন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

উমরাহ চাহিদা বাড়ছে — প্রস্তুত Jetway

বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে উমরাহ পালনের আগ্রহ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ সহজলভ্য হওয়ার সাথে সাথে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে উমরাহ যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে Jetway Hajj Group তার সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে।

উন্নত ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সহায়তা, মক্কায় মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী আবাসন ব্যবস্থা, মদিনায় মসজিদে নববীর কাছাকাছি হোটেল, ফ্লাইট সমন্বয় এবং সৌদি আরবে সার্বক্ষণিক অন-গ্রাউন্ড সহায়তা — প্রতিটি ক্ষেত্রে Jetway Hajj Umrah Group যাত্রীদের জন্য সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করছে।

প্রতিটি যাত্রী আলাদা — সেবাও তাই ভিন্ন

Jetway Hajj Umrah Group বিশ্বাস করে, প্রতিটি উমরাহ যাত্রী আলাদা — তাদের চাহিদা, সামর্থ্য ও প্রত্যাশা ভিন্ন। তাই প্রতিষ্ঠানটি একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে নয়, বরং প্রতিটি যাত্রীর প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজড উমরাহ প্যাকেজ অফার করে।

যারা সীমিত বাজেটে উমরাহ পালন করতে চান তাদের জন্য রয়েছে সাশ্রয়ী ইকোনমি প্যাকেজ। আর যারা উন্নত সুবিধা ও বিশেষ সেবার মাধ্যমে আরও আরামদায়ক সফর চান, তাদের জন্য রয়েছে প্রিমিয়াম প্যাকেজ। প্রতিটি প্যাকেজেই নিশ্চিত থাকে নিরাপত্তা, সময়ানুবর্তিতা এবং ব্যক্তিগত যত্ন।

বাংলা ভাষায় গাইডেন্স ও সহায়তা প্রদান Jetway Hajj Umrah Group-এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ঢাকায় ডকুমেন্টেশন সহায়তা থেকে শুরু করে সৌদি আরবে বাংলাভাষী স্টাফের উপস্থিতি — প্রতিটি ধাপে ভাষা যেন যাত্রীদের জন্য কোনো বাধা না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হয়।

যাত্রার আগেই শুরু হয় সেবা

Jetway Hajj Umrah Group-এর সেবা শুধু বিমানবন্দরে শুরু হয় না — এটি শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। নিবন্ধিত যাত্রীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ওরিয়েন্টেশন সেশন আয়োজন করে, যেখানে উমরাহর রীতি-নীতি, পবিত্র নগরীতে আচার-আচরণ, স্বাস্থ্য সতর্কতা, প্যাকিং গাইড এবং সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর কী করতে হবে — সব কিছু বিস্তারিতভাবে জানানো হয়।

এই প্রস্তুতির ফলে প্রতিটি যাত্রী বাংলাদেশ ছাড়েন আত্মবিশ্বাস, স্বচ্ছতা এবং আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি নিয়ে। এই মনোযোগ ও যত্নের কারণেই Jetway Hajj Umrah Group বাংলাদেশে উমরাহ সেবায় নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

সেবার বাইরে, একটি পবিত্র দায়িত্ব

Jetway Hajj Umrah Group নিজেকে কেবল একটি ট্রাভেল এজেন্সি মনে করে না। প্রতিষ্ঠানটি এই কাজকে দেখে একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে — মুসলিম ভাই-বোনদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে সহায়তা করার সুযোগ হিসেবে।

প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র বলেন, “২০০৯ সাল থেকে আমরা যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছি, এবং প্রতি বছর আমরা আরও বেশি যত্ন, আরও বেশি পেশাদারিত্ব এবং আরও বেশি আন্তরিকতার সাথে এই কাজ করার প্রতিজ্ঞা নবায়ন করি। আমাদের যাত্রীদের আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সবচেয়ে বড় পুরস্কার। উমরাহ সেবার সম্প্রসারণ আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রকাশ।”

এখনই নিবন্ধন করুন

Jetway Hajj Umrah Group সারা বছর উমরাহ প্যাকেজ অফার করে থাকে। যেসব পরিবার ও ব্যক্তি উমরাহ পালনের পরিকল্পনা করছেন, তারা প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য সরাসরি Jetway Hajj Umrah Group-এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

Jetway Hajj Umrah Group সম্পর্কে

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত Jetway Hajj Umrah Group বাংলাদেশের অন্যতম অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত হজ ও উমরাহ এজেন্সি। সতেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি সারা বাংলাদেশের মুসলিম যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আধ্যাত্মিকভাবে পরিপূর্ণ হজ ও উমরাহ সফরের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে আসছে।

যোগাযোগ: 

ওয়েবসাইট: https://jetwayhajjgroup.com/ 

ইমেইল: [email protected] 

ফোন: +880 1795-827700 

ঠিকানা: ৪র্থ তলা, নোয়াখালী টাওয়ার, ৫৫/বি পুরানা পল্টন, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক