ট্রাম্প প্রশাসনকে উপেক্ষা করে মাদুরোর পক্ষে রায় দিল নিউইয়র্ক আদালত
নিউইয়র্ক-এর একটি আদালতের সিদ্ধান্তে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-র আইনি লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তন এনে তার আইনজীবীর পারিশ্রমিক পরিশোধের পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত আদালতের নথিতে জানা যায়, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভেনেজুয়েলা সরকার এখন মাদুরোর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ ও পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে পারবে।
এর আগে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে মাদুরোর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ ও পারিশ্রমিক প্রদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এতে করে মামলার বিচার প্রক্রিয়াও থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
মাদুরোর আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, এই পরিস্থিতি একজন আসামির ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে।
গত জানুয়ারিতে কারাকাস থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।
তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
শুনানিতে বিচারক বলেন, কোনো আসামিকে বিচারের মুখোমুখি করে তার আইনি সহায়তার পথ বন্ধ করে দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে অভিযুক্তরা হেফাজতে থাকায় জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি নেই।
শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা শিথিলে অনাগ্রহ দেখালেও আদালতের পর্যবেক্ষণের পর তারা অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। এর ফলে ভেনেজুয়েলা সরকারকে আইনি ব্যয় বহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মাদুরোর বিরুদ্ধে এই মামলার সূত্রপাত যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সময় থেকেই মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
মাদুরো বরাবরই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।













