ইরান যুদ্ধের কারণে বড় সংকটে যুক্তরাষ্ট্র: ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ কমে সামরিক ঝুঁকি বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার ফলে বড় ধরনের সামরিক চাপের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে দেশটির অস্ত্র মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত শুরু হলে তারা গোলাবারুদ সংকটে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় সাত সপ্তাহের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল লক্ষ্যভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। একই সময়ে থাড মিসাইলের অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশও ব্যবহৃত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অস্ত্র পুনরায় মজুদ করতে অন্তত চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। যদিও নতুন সরবরাহ চুক্তি করা হয়েছে, তবুও উৎপাদন ও সরবরাহে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্বল্পমেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর মতো সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিশেষ করে চীনের মতো বড় শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই মজুদ যথেষ্ট নয় বলে সতর্ক করা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এত বড় পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এই ঘাটতি পূরণে কয়েক বছর সময় লাগবে।
অন্যদিকে পেন্টাগন দাবি করেছে, তাদের কাছে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে কংগ্রেসের কিছু সদস্য এবং বিশ্লেষকরা এই অস্ত্র ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং একই সঙ্গে অন্যান্য আন্তর্জাতিক মিশনে সহায়তা দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন।













