সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ করা হয় না; বরং এটি রহিত, স্থগিত বা সংশোধন করা হয়। তাই সংবিধান নিয়ে যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সঠিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও ঘোষণাপত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা ঠিক নয়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে কিছু ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি অসঙ্গতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর কিছু অংশ ইতোমধ্যে হাইকোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে এবং বাকি অংশ সংসদে পর্যালোচনা করে বাতিল বা সংশোধন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে থাকা কিছু ‘ভুল ইতিহাস’ সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা সংবিধানে প্রতিফলিত করার কথাও উল্লেখ করেন।
সংবিধানের মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহালের বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। তার মতে, এটি দেশের জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হয় সংসদের মাধ্যমে। এ লক্ষ্যে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যেখানে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।
বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে বসে আলোচনা করতে হবে। সংসদের বাইরের কোনো ‘প্রেসক্রিপশন’ নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।










