ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
ইরান সংঘাত ‘আমাদের যুদ্ধ নয়’, এ যুদ্ধে যুক্তরাজ্য জড়াবে না
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত “তাদের যুদ্ধ নয়” এবং যুক্তরাজ্য এতে জড়িয়ে পড়বে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকার এই সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না।
সোমবার তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাই সরকার কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, তা পরিষ্কারভাবে জানানো জরুরি। তার ভাষায়, এই যুদ্ধে জড়ালে দেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর বিষয়ে সরকার অনড় অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি, পরিবহন, আর্থিক ও বীমা খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে, কারণ এই পথটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকির কারণে ইতোমধ্যেই তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব যুক্তরাজ্যের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে, বিশেষ করে জ্বালানির দাম বাড়ছে।
সরকার জানিয়েছে, বাড়তি খরচে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে, কারণ সার সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানুষকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সরকারি ব্যয় না বাড়ে। অতীতে সব নাগরিককে সমানভাবে সহায়তা দেওয়ার কারণে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা মাথায় রেখেই এবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে আবারও জরুরি বৈঠক করবেন। তবে জ্বালানি সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা না ভেবেই যুদ্ধে জড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, যা দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।










