শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সময়মতো বেতন বোনাস না পেয়ে অনিশ্চয়তায় গার্মেন্ট শ্রমিকেরা

প্রবাহ বাংলা প্রতিবেদন প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫৫ এম
সময়মতো বেতন বোনাস না পেয়ে অনিশ্চয়তায় গার্মেন্ট শ্রমিকেরা

সরকারি নির্দেশনা ও বিশেষ ঋণসুবিধা থাকা সত্ত্বেও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক এখনো ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদুল ফিতরের উৎসবভাতা পাননি। শ্রমিকনেতারা বলছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও মালিকদের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেতন বোনাস ঝুলিয়ে রেখে শ্রমিকদের অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার মধ্যে রাখছেন।

শিল্প পুলিশের তদারকিতে থাকা দেশের ১০ হাজার ১০০ শিল্পকারখানার মধ্যে গতকাল রোববার পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৩৪টি কারখানা, অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ভাতা পরিশোধ করেছে। বিপরীতে ৩ হাজার ২৬৬টি কারখানায় (৩২ শতাংশ) এখনো বেতন–ভাতা বকেয়া রয়েছে। এই বকেয়া কারখানাগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক কারখানা ৭১৮টি, বস্ত্রকল ১৫৮টি, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের ভেতরের কারখানা ১০টি, পাটকল ৪টি এবং অন্যান্য ধরনের ২ হাজার ৩৭৬টি প্রতিষ্ঠান।

একই সময়ে ১০ হাজার ১০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে মাত্র ৩ হাজার ৬৯২টি কারখানা, যা প্রায় ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এখনো বোনাস বাকি রয়েছে ৬ হাজার ৪০৮টি প্রতিষ্ঠানে, যা মোটের প্রায় ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক রোজার শেষ ভাগে এসে উৎসবের আগে পাওনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকছেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধে তাগিদ দিয়ে চলতি মাসের ৩ মার্চ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৪তম সাধারণ সভা এবং তৈরি পোশাক খাত নিয়ে বিশেষ টিসিসির ২৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী স্পষ্ট নির্দেশনা দেন, ফেব্রুয়ারির বেতন ৯ মার্চের মধ্যে এবং ঈদের বোনাস ১২ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

বেতন–বোনাসের অর্থ জোগাড়ে সহায়তা দিতে এর আগে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা ঈদের আগে দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার অনুরোধ জানান। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সচল ও রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীদের এক মাসের বেতন পরিশোধের জন্য বিশেষ ঋণসুবিধা অনুমোদন করে এবং চলতি মাসেই রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের জন্য বকেয়া ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করে।

তার পরও বরাবরের মতোই বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের সড়কে নামতে দেখা যাচ্ছে। গত ৯ মার্চ ময়মনসিংহের ভালুকায় রাসেল অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকেরা বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গাবতলী এলাকায় সেঞ্চুরি গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা বকেয়া বেতন, ওভারটাইমের মজুরি ও বোনাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য সচল কারখানা রয়েছে ৮৩২টি। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এক মাসের বেতন পরিশোধের জন্য ব্যাংকঋণ নিয়েছে। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী এখনো ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেনি, আর বোনাস দিয়েছে অর্ধেকেরও কম কারখানা। জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে এখনো বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়নি, তবে কিছু কারখানা ব্যাংকঋণ চেয়েও নানা জটিলতার কারণে তা পায়নি। তাঁর দাবি, অধিকাংশ কারখানা বৃহস্পতিবারের মধ্যেই বেতন বোনাস দিয়ে ছুটি ঘোষণা করবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য সচল কারখানা রয়েছে ২ হাজার ১২৭টি। সংগঠনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬টি কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে, অর্থাৎ ৮১টি কারখানায় এখনো বেতন বাকি। ঈদ বোনাস দিয়েছে ১ হাজার ৮৮০টি কারখানা। জানুয়ারি মাসের বেতন এখনো বাকি রয়েছে ৫টি কারখানায়, আবার চলতি মাসের বেতনের একাংশ অগ্রিম দিয়েছে ৯টি কারখানা। বেতন ভাতা মেটাতে ৩৮৭টি কারখানা বিজিএমইএর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে; সংগঠনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এর বাইরে আরও ২০০ থেকে ৩০০ কারখানা বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়েছে।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, প্রায় প্রতি মাসেই কিছু নন–কমপ্লায়েন্ট কারখানা সময়মতো বেতন দিতে পারে না, একই চিত্র চলতি মাসেও কিছুটা আছে। তাঁর ভাষ্য, অধিকাংশ কারখানা ইতিমধ্যে বেতন দিয়েছে, মাত্র ৮১টি কারখানার বেতন বাকি রয়েছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে এসব কারখানাও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শেষ মুহূর্তে এক দুটি কারখানায় সমস্যা দেখা দিলে সংগঠন হিসেবে তারা সমাধানে এগিয়ে যাবেন। বিজিএমইএর পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ সোমবার সদস্য কারখানার প্রায় ১৫ শতাংশে, মঙ্গলবার ৩৫ শতাংশে, বুধবার ৪৫ শতাংশে ও বৃহস্পতিবার অবশিষ্ট ৫ শতাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার মনে করেন, সমস্যাটি অনেকটাই নীতিগত। তাঁর অভিযোগ, মালিকদের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারিত সময়ে বেতন বোনাস পরিশোধ না করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি রাখে, যার ফলে শ্রমিকেরা সব সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন। তাঁর মত, সরকার চাইলে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতি বছর ঈদের আগে পুনরাবৃত্ত এই সংকট অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক