সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রার স্বপ্ন ভঙ্গ, লিবিয়ায় বাংলাদেশিসহ আটক ১২১
ছবি-এআই দিয়ে বানানো
সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় লিবিয়াতে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকসহ ১২১ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসন। আটক ব্যক্তিদের বর্তমানে বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
পূর্বাঞ্চলীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এআইএমএ দুটি পৃথক অভিযানে তাদের আটক করে।
গত ৮ মার্চ আল-বাইদা শহরে অভিযান চালিয়ে ১৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তারা সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানা গেছে। পরে ১২ মার্চ সির্তে শহরে আরেকটি অভিযানে আরও ১০৫ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছে, তবে আলাদাভাবে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
আটকদের বেনগাজি গ্রেটার ও গনফুদা আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান সালাহ আল-খাফিফি এক নিরাপত্তা বৈঠকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলায় আনতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে লিবিয়া দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের অধীনে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে সেখানে মানবপাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত জীবনের আশায় অনেক অভিবাসী লিবিয়াকে ইউরোপে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে অনেকেই মানবপাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হন।
এদিকে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, লিবিয়ায় অভিবাসীদের অপহরণ, নির্যাতন ও জোরপূর্বক শ্রমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
তবুও উন্নত জীবনের আশায় হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং লিবিয়াকে একটি প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন।









