মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। এশিয়ার বাজারে সপ্তাহের প্রথম দিনের লেনদেন শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে বাজার খোলার পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৮ দশমিক ৩৫ ডলার বা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ দশমিক ০৪ ডলারে পৌঁছেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ১৬ দশমিক ৫০ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর ফলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়। তাই এই পথে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়ে।
জেপি মরগানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসম্যান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সম্পদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেলের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে সংঘাত দ্রুত কমে গেলে বাজার আবার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।
এদিকে জ্বালানি বিষয়ক ওয়েবসাইট অয়েল প্রাইস ডট কম জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু ক্ষেত্রে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে।
সংঘাতের প্রভাবে ইরাক ও কুয়েত তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে। পাশাপাশি কাতার তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহও কমিয়েছে।
ইরাকের বসরা অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় মজুত দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।













