খামেনিকে হত্যায় ইসরায়েল “ব্লু স্প্যারো” ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে: কেমন এই ক্ষেপণাস্ত্র?
শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন, যা ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। ইসরায়েলি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খামেনির সংরক্ষিত আড্ডায় হামলা চালানো হয় ব্লু স্প্যারো নামের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। এটি যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল অতিক্রম করে দ্রুত নিচে এসে আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১,২৪০ মাইল পথ অতিক্রম করতে পারে এবং বিশেষ গতিপথের কারণে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজে ধরা পড়ে না।
হামলার সময় খামেনি এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা পাস্তুর স্ট্রিটের সংরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন। হামলার পর ইরানি সরকারি সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হয়েছেন।
ব্লু স্প্যারো মূলত শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র অনুকরণ করার জন্য তৈরি হলেও, এখন এটি কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দৈর্ঘ্য প্রায় ৬.৫ মিটার এবং ওজন প্রায় ১.৯ টন, যা যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়। উৎক্ষেপণের পর এটি বায়ুমণ্ডল ছাড়িয়ে দ্রুত নিচে আঘাত হানে, ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধীর হয়ে যায়।
হামলাটি দীর্ঘদিন ধরে মোসাদ ও ইউনিট ৮২০০-এর গোয়েন্দা তৎপরতার ফল। খামেনির নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধি, সড়কপথের নজরদারি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। হামলার সময় মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করা হয় যাতে কোনো সতর্ক সংকেত পৌঁছায় না।
হামলার দিন ইসরায়েলি বিমান সকাল ৭.৩০ নাগাদ উঠেছিল এবং দুই ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছেছিল। সকাল ৯.৪০ মিনিটের দিকে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। প্রায় ৩০টি নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে খামেনির সংরক্ষিত স্থানের আশেপাশের স্থাপনা ধ্বংস করা হয়। এই হামলায় খামেনি ছাড়াও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা এবং তার পরিবারের কিছু সদস্য নিহত হয়েছেন।










