“ইরানের সব কিছু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে” -দাবি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির নৌ ও বিমান সক্ষমতা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর সফল আঘাত হেনেছে। তিনি বলেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা, নৌ শক্তি ও বিমানঘাঁটির বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তার দাবি, এখন দেশটির আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল।
ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছিল। তবে তার ধারণা ছিল, ইরান আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই সম্ভাবনা ঠেকাতেই আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ইসরায়েলও হামলায় জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছে।
ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটির ভেতরে বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়ে আগে কিছু নাম বিবেচনায় ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই সম্ভাবনাগুলো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার মতে, নতুন নেতৃত্ব কেমন হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি আগের মতো কঠোর অবস্থানের কেউ ক্ষমতায় আসে, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বৈঠকের সময় ট্রাম্প যুক্তরাজ্য ও স্পেনের প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে লন্ডনের প্রাথমিক অনাগ্রহের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অসন্তুষ্টি জানান।
হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে উঠবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।













