ইংলিশ চ্যানেল পেরোনো বন্ধে যুক্তরাজ্যে নতুন পদক্ষেপ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পাসপোর্ট বিক্রি অথবা অভিবাসী পাচারের বিজ্ঞাপন দিলে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়ার নতুন আইন আনছে যুক্তরাজ্য সরকার।
ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে আসতে চাওয়া অভিবাসীদের থামাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে লন্ডন৷
রোববার (৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি অনলাইনে ব্রিটিশ অভিবাসন আইন ভাঙার উদ্দেশ্যে কন্টেন্ট তৈরি বা প্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসনে সহায়তা করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলেও নতুন এই আইনটি ‘বর্ডার সিকিউরিটি বিল’-এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত হচ্ছে৷ এই আইনটি বর্তমানে পার্লামেন্টে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে৷ নতুন আইনটি কার্যকর হলে, পুলিশ ও প্রসিকিউটরেরা পাচারকারী গ্যাংদের বিরুদ্ধে আরো কার্যকরভাবে অভিযান চালাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে৷
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এর আগে বলেছিলেন, “এই পাচারকারী চক্রগুলো বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং তাদেরকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মতোই বিবেচনা করে দমন করতে হবে৷’’
গত এক বছরে ক্ষমতায় আসার পর স্টারমারের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বাম লেবার পার্টি পাচারকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে, যুক্তরাজ্যের সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে যৌথ আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রমের অংশীদারত্ব জোরদার করেছে৷
তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ২৫ হাজারের বেশি মানুষ ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে৷ যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি৷
ছোট নৌকা পাড়ি দিয়ে আগত অভিবাসীদের ইস্যু এখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি। ফরাসি উপকূল থেকে রাবার বোটে মানুষদের উঠিয়ে পাঠানোর ভিডিও এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে উদ্বেগ আরও বেড়েছে৷
বিরোধী দলগুলো বলছে, সরকারের এসব নতুন উদ্যোগ ব্যর্থতার প্রমাণ। তারা দাবি করছে যে, এই সমস্যার গোড়াপত্তন হয়েছিল গত ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ সরকারের সময়েই৷
অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টি অভিযোগ করছে, স্টারমার সরকার পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকারের ‘রুয়ান্ডা পরিকল্পনা’ বাতিল করেই এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে৷
রুয়ান্ডা পরিকল্পনার আওতায় ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আগত অভিবাসীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর কথা ছিল। কনজারভেটিভদের মতে, এটি বিতর্কিত এবং ব্যয়বহুল হলেও কার্যকর হতো।
কনজারভেটিভ পার্টির ইমিগ্রেশন মুখপাত্র ক্রিস ফিলিপ বলেন, “সরকার মাসের পর মাস কিছু না করে এখন কঠোর হওয়ার নাটক করছে৷ এটি হলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না রেখে হঠাৎ করে দৃশ্যমান কিছু দেখানোর এক ব্যর্থ চেষ্টা৷’’
সরকার অবশ্য বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা অভিবাসন আবেদন নিষ্পত্তির জট দূর করতেই সময় লাগছে৷ বহু অভিবাসী এখনো অস্থায়ী আবাসনে, বিশেষ করে হোটেলগুলোতে অবস্থান করছেন যেখানে তারা কাজ করার অনুমতি পাচ্ছেন না৷
এই হোটেলগুলো অভিবাসনবিরোধী উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে৷ ভুল তথ্য, স্থানীয় উদ্বেগ এবং চরম ডানপন্থিদের উসকানিতে এসব স্থানে নিয়মিত বিক্ষোভ এবং কখনো কখনো সহিংস ঘটনাও ঘটছে৷













