ইরানে খামেনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরান সরকার সপ্তাহের দীর্ঘ সরকারি ছুটি ও চল্লিশ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। দেশটির সরকারি টেলিভিশন ও সরকার‑সংশ্লিষ্ট সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক মাধ্যম আল জাজিরাসহ বিভিন্ন সংস্থা এ তথ্য সন্নিবেশিত করেছে।
সরকারি ঘোষণা ও সময়কাল
ইরানের সরকার‑সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশ জুড়ে চল্লিশ দিন জাতীয় শোক পালিত হবে, যার সঙ্গে সাত দিনের জনগণের জন্য সরকারি ছুটিও ঘোষিত হয়েছে। এই পর্বে সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে, আর ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শোক পালন করা হবে বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
হামলার প্রেক্ষাপট ও খামেনির মৃত্যু
গত শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তেহরানে খামেনির প্রাসাদ ও কার্যালয় ভবন লক্ষ্য করা হয়, যেখানে গুরুতর ক্ষতির ফলে খামেনি সহ একাধিক ব্যক্তি নিহত হন বলে ফার্স ও অন্যান্য সংবাদসংস্থা জানিয়েছে। এছাড়া ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে আল জাজিরা ও অন্যান্য সংবাদপত্র রোববার জানায়, এ হামলায় খামেনির কন্যা, জামাই ও এক নাতি‑নাতনিও নিহত হয়েছেন, যা ইরানের নেতৃত্ব পরিবারের উপর হামলার মারাত্মক ব্যক্তিগত প্রভাব তুলে ধরেছে।
আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি যুক্তরাষ্ট্রি দাবি
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পর বাংলাদেশ সময় রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, “ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত হয়েছেন”, যা এই হামলা ও তার পরিণতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উত্তপ্ত করেছে। ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্রি সূত্র আগে থেকে বলেছিল, খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের হামলার লক্ষ্য করা হবে এবং হামলার পর খামেনির দেহ খুঁজে পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও বিশদ প্রমাণ সরকারি স্তরে সবসময় সম্পূর্ণ প্রকাশ হয়নি।
ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়া ও অঞ্চলীয় প্রভাব
ইরানের সরকারি টেলিভিশন পরে খামেনির মৃত্যু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে তার ভাবনাময় প্রারম্ভিক জীবনী ও নেতৃত্বকালের নানা দৃশ্য প্রচার করে এবং তাকে “শহীদ সর্বোচ্চ নেতা” হিসেবে অভিহিত করে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেছে, দায়ী পক্ষকে “কঠোর শাস্তি” দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা অঞ্চলীয় যুদ্ধ আরও বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।













