পাসপোর্ট সেবায় অর্থের বিনিময়ে সহায়তাকারী ‘দালাল’দের নিবন্ধন করার উদ্যোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক
ছবি- সংগৃহীত।
পাসপোর্ট সেবা পেতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে অর্থের বিনিময়ে কাজ করা মধ্যস্থতাকারীদের, যাদেরকে অনেকে “দালাল” বলে সম্বোধন করেন, তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ পরিকল্পনা অনুযায়ী দলিল লেখকদের মতো নির্দিষ্ট নিয়মে অনুমোদিত সহায়তাকারীরা আবেদনপত্র পূরণ, কাগজপত্র যাচাই ও অনলাইন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে পারবেন এবং নির্ধারিত ফি গ্রহণ করবেন। সরকারের দাবি, এতে একদিকে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে, অন্যদিকে অনিয়ম হলে দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে এবং সফল হলে তা দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
তবে এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা পর্যায়ে অনেকে মনে করছেন, এতে তথাকথিত দালাল চক্রের কার্যক্রমই আইনি স্বীকৃতি পাবে। সমালোচকদের মতে, সেবাকে আরও সহজ ও পুরোপুরি ডিজিটাল করার পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের বৈধতা দিলে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারে এবং সাধারণ মানুষের খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্নীতি বিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও এ ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে বলেছে, পাসপোর্ট সেবাকে নাগরিকবান্ধব ও সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে কাজ করা কিছু সহায়তাকারীর দাবি, অনেক আবেদনকারী প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে নিজেরা আবেদন করতে পারেন না বলেই তাঁদের সহযোগিতা নেন। নিবন্ধনের মাধ্যমে কাজ করলে অনিয়ম কমবে এবং সেবাগ্রহীতারাও নির্দিষ্ট খরচ সম্পর্কে আগে থেকেই জানতে পারবেন।
বর্তমানে দেশে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু থাকলেও সার্ভারে প্রবেশ, নির্ধারিত সময় পাওয়া, অফিসে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করা ও নানা জটিলতার কারণে অনেক আবেদনকারী ভোগান্তির অভিযোগ করছেন। সরকারের মতে, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই একটি নিয়ন্ত্রিত সহায়তাকারী ব্যবস্থা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সেবার গতি—দুই দিকেই সুফল পাওয়া যায়। তবে সমালোচকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান হতে পারে পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা।










