শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ

তিন মাসে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ, প্রত্যাবাসনে এগিয়ে জার্মানি

প্রবাহ বাংলা ডেস্ক ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পিএম
১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ

ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো থেকে মোট এক লাখ ১৫ হাজার ৪৪০ জন অনাগরিক অভিবাসীকে সংশ্লিষ্ট দেশ ছেড়ে যাওয়ার আইনি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় দেশ ছাড়ার নির্দেশের এই সংখ্যা ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুসারে, ইইউভুক্ত দেশগুলোতে অনিয়মিত বা অননুমোদিত অবস্থানের কারণে এসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে ‘অর্ডার টু লিভ’ বা দেশত্যাগের বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে। জাতীয়তার ভিত্তিতে বিশ্লেষণে দেখা যায়, একাই ১২ হাজার ৩২৫ জন আলজেরীয় নাগরিককে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা মোট আদেশের প্রায় ১০ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছেন মরক্কোর (৬ হাজার ৬৭০) এবং তুরস্কের (৬ হাজার ৩৫০) নাগরিকেরা।

দেশভিত্তিক হিসাবে ফ্রান্সই সবচেয়ে বেশি দেশ ছাড়ার আদেশ জারি করেছে। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে দেশটি ৩৩ হাজার ৭৬০ জন অনাগরিককে দেশ ছাড়তে বলেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মানি ১২ হাজার ৫১০টি এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা গ্রিস ১০ হাজার ১৭৫টি ‘অর্ডার টু লিভ’ জারি করেছে। ইউরোস্ট্যাট বলছে, কেবল এই তিনটি দেশ মিলেই ইইউজুড়ে জারি হওয়া সব দেশত্যাগের আদেশের প্রায় ৪৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

একই সময়ে যাদের বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নির্দেশ ছিল, তাদের মধ্যে ৩৪ হাজার ১৫৫ জন অভিবাসী বাস্তবে ইউরোপ ছেড়ে তৃতীয় দেশগুলোতে ফিরে গেছেন, যা ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এদের মধ্যে ১৩ হাজার ৫১০ জনকে পুলিশি প্রহরায় জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং বাকিরা স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে গেছেন বলে ইউরোস্ট্যাট জানায়। সামগ্রিকভাবে ইইউতে প্রত্যাবর্তনের প্রায় ৬০ শতাংশ স্বেচ্ছায় এবং ৪০ শতাংশ জোরপূর্বক হয়ে থাকে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে জার্মানি। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে দেশটি থেকে ৭ হাজার ১৯০ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যেখানে স্বেচ্ছা ও জোরপূর্বক উভয় ধরনের প্রত্যাবর্তনই অন্তর্ভুক্ত। একই সময়ে ফ্রান্স থেকে ফিরেছেন ৩ হাজার ৭৬০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ৩ হাজার জন অভিবাসী। শুধু জোরপূর্বক বহিষ্কারের হিসাবে দেখা যায়, জার্মানি ৩ হাজার ৭১০ জনকে, ফ্রান্স ১ হাজার ৪৩৫ জনকে এবং ইতালি ১ হাজার ১০০ জনকে বাধ্যতামূলকভাবে ফেরত পাঠিয়েছে।

জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তনের হার সবচেয়ে বেশি ইতালিতে, যেখানে ফেরত পাঠানো প্রায় সব অভিবাসীকেই বাধ্যতামূলকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের সংখ্যা শূন্যের কাছাকাছি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক; সেখানে জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তনের হার ৯০ শতাংশের বেশি বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইউরোস্ট্যাট। ফ্রান্সে এই হার তুলনামূলক কম—দেশটি থেকে ফিরিয়ে নেওয়া অভিবাসীদের প্রায় ৩৮ শতাংশ জোরপূর্বক, আর ৬১ শতাংশ স্বেচ্ছায় ফিরে গেছেন।

ইউরোস্ট্যাটের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আলজেরীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে বাস্তব প্রত্যাবাসনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে পুরো ইইউজুড়ে মাত্র ৩৫০ জন আলজেরীয় নাগরিককে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে, যদিও দেশ ছাড়ার নির্দেশ পেয়েছেন ১২ হাজারের বেশি। এর একটি প্রধান কারণ হলো, আলজেরিয়া খুব সীমিত সংখ্যক ক্ষেত্রে কনস্যুলার পাস বা ল্যাসে-পাসে ইস্যু করে, যা পাসপোর্টবিহীন অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠাতে প্রয়োজনীয় নথি।

ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আলজেরীয় কর্তৃপক্ষ অনেক সময় কনস্যুলার নথি দিতে গড়িমসি করে বা সরাসরি অস্বীকার করে, ফলে আলজেরীয় অনিয়মিত অভিবাসীদের নির্বাসন প্রক্রিয়া আটকে যায়। ফরাসি প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রগুলোতে (সিআরএ)ও এর প্রভাব স্পষ্ট; মানবাধিকার সংগঠন ও পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আটক থাকা অভিবাসীদের বড় অংশই মাগরেব অঞ্চলের নাগরিক, যাদের মধ্যে আলজেরীয়রা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

ফরাসি এনজিও ও গবেষণা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব সিআরএ-তে আটক থাকা অভিবাসীদের মধ্যে কয়েক হাজার আলজেরীয়, প্রায় দুই হাজার টিউনিশীয় এবং প্রায় সাড়ে এক হাজার মরক্কোর নাগরিক ছিলেন। তুলনামূলকভাবে অন্য জাতীয়তার সংখ্যা অনেক কম; একই সময়ে প্রায় ৭০০ রোমানীয়, ৪৫০ আলবেনীয়, ৩৫০ গিনি এবং ৩০০-এর মতো আফগান ও আইভোরিয়ান নাগরিক এসব কেন্দ্রে আটক ছিলেন।​

পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে—এমন ইঙ্গিত হিসেবে অনেকেই দেখছেন আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুনের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে। তিনি বলেছেন, বিদেশে ‘অনিয়মিত ও অনিশ্চিত’ অবস্থায় থাকা এবং গুরুতর অপরাধে জড়িত নন এমন আলজেরীয়দের দায়মুক্তি দিতে একটি ডিক্রি আনা হবে। তবে আলজেরিয়া বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ডিক্রিটির সুনির্দিষ্ট শর্ত, প্রয়োগের ক্ষেত্র এবং বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য স্পষ্ট না হওয়ায় এখনই ব্যাপক প্রত্যাবাসনের আশা করা কঠিন।​


তথ্যসূত্র (বাংলায় উল্লেখ):

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক