শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় কোরআানের পাখি আবু রায়হানকে নিয়ে প্রবাসীদের হৃদয়ছোঁয়া ইফতার

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৪ পিএম
মালয়েশিয়ায় কোরআানের পাখি আবু রায়হানকে নিয়ে প্রবাসীদের হৃদয়ছোঁয়া ইফতার

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এক ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ‘কোরআানের পাখি’ নামে পরিচিত কিশোর হাফেজ ক্বরী আবু রায়হান। তাঁর সুমধুর কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত ও অনুপ্রেরণামূলক উপস্থিতি পুরো অনুষ্ঠানে এনে দেয় এক আধ্যাত্মিক আবহ।

রাজধানী কুয়ালালামপুরের বাংলা মার্কেট খ্যাত কোতারায়ার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ ইফতার মাহফিলে অংশ নেন বিভিন্ন পেশার প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। শুরুতেই পবিত্র কোরআন সূরা ইয়াসিন থেকে তিলাওয়াত করেন আবু রায়হান। তাঁর তিলাওয়াত উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং মুহূর্তেই পরিবেশ হয়ে ওঠে স্নিগ্ধ ও প্রশান্তিময়।

আয়োজক প্রবাসী আবুল কালাম জানান, প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও ধর্মীয় চেতনা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যকে সুদৃঢ় করতেই এ আয়োজন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে কোরআনের শিক্ষা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে আবু রায়হানের মতো তরুণ হাফেজদের সামনে আনা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত প্রবাসী কমিউনিটি নেতা রাশেদ বাদল বলেন, আবু রায়হান শুধু একজন হাফেজ নন, তিনি কোরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর অর্জন ও সাধনা প্রবাসী বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের জন্য অনুকরণীয়। প্রবাসী কাজল ও মোরশেদ আলম বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা সন্তানদের ইসলামী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে পরিবার ও কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন কোতারায়া বাংলা মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা হেলাল উদ্দিন। তিনি মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরেন। আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মাস হিসেবে রমজা

নের গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খতিব তার বক্তব্য বলেন, প্রবাসে থেকেও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে হবে।
আবু রায়হান মালয়েশিয়া প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি এই প্রথম প্রবাসে তারাবির নামাজ পড়াচ্ছি। পবিত্র রমজান মাস পুরোটাই আপনাদের সাথে আছি। আপনাদের পাশে থেকে আমার খুব ভাল লাগছে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন আমিও আপনাদের জন্য দোয়াকরব। যেন আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আপনাদের রোজি রোজগারে বরকত দান করে।

ইফতার মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ, প্রবাসীদের সার্বিক উন্নতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা খতিব হাফেজ মাওলানা হেলাল উদ্দিন। মুনাজাতের সময় অনেককেই আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এমন উদ্যোগ প্রবাসীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্য আরও জোরদার করবে।
সব মিলিয়ে, কোরআানের পাখি আবু রায়হানকে ঘিরে মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের এই ইফতার আয়োজন হয়ে উঠেছিল এক অনন্য মিলনমেলা—যেখানে ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, ভালোবাসা ও প্রবাসী ঐক্যের এক উজ্জ্বল চিত্র ফুটে ওঠে।

হাফেজ ক্বারী আবু রায়হান বাংলাদেশের একজন বিশ্বজয়ী কুরআন তিলাওয়াতকারী (ক্বারী) এবং হাফেজ । তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে গৌরব বয়ে এনেছেন। ২০০৫ সালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বল্লবদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বল্লবদী আল-ইসলাহ একাডেমী ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা থেকে শিক্ষা লাভ করেন ।
আন্তর্জাতিক সাফল্য

২০১৮ সালে কাতারের টেলিভিশন চ্যানেল ‘জিম টিভি’ আয়োজিত তিজান আন-নূর আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০২৪ সালে আফ্রিকার সেনেগালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ৩০টি দেশকে পেছনে ফেলে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন।
বর্তমানে তিনি রমজানে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের কোতারায়া বাংলা মসজিদে তারাবির নামাজ পড়াচ্ছেন। তিনি মালয়েশিয়ার জাতীয় মসজিদে (মসজিদ নেগারা) আজান দিয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তিনি তাঁর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামিক সংগীত শেয়ার করেন।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক