শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিডিআর বিদ্রোহের ১৭ বছর: বিচার এখনো অপেক্ষমাণ

প্রবাহ বাংলা ডেস্ক ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৮ এম
বিডিআর বিদ্রোহের ১৭ বছর: বিচার এখনো অপেক্ষমাণ

২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্ণ হলেও মূল হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর), বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত সেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের বিচার এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ঝুলে আছে।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে দরবারের আড়ালে শুরু হয় বিদ্রোহ। দাবিদাওয়া আদায়ের নামে বিপথগামী সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র, ভারী অস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে আগুন, লুটপাট ও নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ ঘটনায় বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ও নারী-শিশুসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর পুরো বাহিনী কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, রাষ্ট্রজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সুনামি বয়ে যায়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এ হত্যাকাণ্ড ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বিদ্রোহ-পশ্চাৎ পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয় এবং বাহিনীর নতুন আইন ও পোশাক চালু করা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

দেশে সর্ববৃহৎ হত্যা মামলা

পিলখানার হত্যাযজ্ঞের পর ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়—একটি হত্যা মামলা ও আরেকটি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা। হত্যা মামলায় মোট ৮৫০ জনকে আসামি করা হয়, যা আসামির সংখ্যার দিক থেকে দেশের বিচার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ফৌজদারি মামলা হিসেবে উল্লেখিত।​

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়; খালাস পান ২৭৮ জন আসামি। এর আগে চারজন আসামি মৃত্যুবরণ করেন।​

হাইকোর্টের রায় ও বর্তমান অবস্থা

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ফৌজদারি আইনের বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয় এবং আসামিরা আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর রায় দেন; তার পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে।​

হাইকোর্ট সেই রায়ে ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়; খালাস পান ২৮৩ জন। পুরো বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ মিলিয়ে অন্তত ৫৯ আসামি ইতোমধ্যে মারা গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।​

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২২৬ জন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে ৭৩টি আপিল ও লিভ টু আপিল করা হয়েছে। অন্যদিকে খালাসপ্রাপ্ত কিংবা শাস্তি কমে যাওয়া ৮৩ জন আসামির বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ২০টি লিভ টু আপিল দায়ের করেছে। এসব আবেদন এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়। রাষ্ট্র ও আসামি উভয় পক্ষই বলছে, তারা শুনানি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত; তবে মামলাটির ব্যাপকতা ও বিচারপতির সংকটের কারণে আলাদা বেঞ্চ গঠন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির প্রয়োজন বলে মত দিচ্ছেন আইনজীবীরা।​

বিস্ফোরক মামলার ধীরগতির বিচার

হত্যা মামলার পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলাটিও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এই মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮৩৪ জনকে; তাদের মধ্যে ৫৭ জন মারা গেছেন এবং ২১ জন পলাতক। মোট সাক্ষী ১ হাজার ৩৪৪ জন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত একটি বিশেষ আদালতে বিচারাধীন।​

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি বিস্ফোরক মামলায় খালাস পাওয়া ১৭৮ জন আসামি বিচারিক আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, অন্য আসামিরা কারাগারে রয়েছেন। প্রসিকিউশন বলছে, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ দীর্ঘ হলেও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দি এখনো অব্যাহত আছে।​

রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের নাম ও নতুন আইনি উদ্যোগ

বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম উঠেছে বলে প্রসিকিউশন দাবি করছে। তাদের ভাষ্য, ওই সাক্ষ্যগুলোতে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে এবং এ কারণে এ সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। (এই অংশটি আপনি যে সোর্স-টেক্সট দিয়েছেন, তা থেকেই উদ্ধৃত তথ্য; উন্মুক্ত অন্য ডিজিটাল সোর্সে এ অভিযোগের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য আকারে স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় না—তাই এ দাবি প্রসিকিউশনের বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করছি, স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়।)

প্রসিকিউশন নেতৃত্বে বিস্ফোরক মামলার চিফ প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর তদন্ত-উদ্ভূত নতুন তথ্যের আলোকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যা মামলাটি অনেক দিন ধরে আপিল শুনানির অপেক্ষায় থাকায় এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। (এ তথ্যও আপনার প্রদানকৃত সোর্স-টেক্সটের ওপর নির্ভরশীল; পৃথকভাবে স্বাধীন যাচাই সীমিত।)

বিদ্রোহের বিচার ও বাহিনীর পুনর্গঠন

হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার বাইরে সারা দেশে বিশেষ আদালত গঠন করে বিডিআর বিদ্রোহের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিদ্রোহসংক্রান্ত অপরাধে ৫৭টি মামলায় ৫ হাজার ৯২৬ জন জওয়ানকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়; বিচার চলাকালে এসব মামলার কমপক্ষে ৫ জন আসামি মারা যান।​

বিদ্রোহের পর বাহিনী পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে শুধু নাম ও ইউনিফর্ম নয়, কাঠামো ও কমান্ড চেইনেও পরিবর্তন আনা হয়। প্রতি বছর ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত সেনা কর্মকর্তা ও বেসামরিক ব্যক্তিদের স্মরণে দোয়া, মিলাদ ও শ্রদ্ধাঞ্জলিসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক