শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আটকে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক

প্রবাহ বাংলা ডেস্ক ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৪ এম
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আটকে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে আরোপ করা বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে, যা তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে নেওয়া সবচেয়ে আলোচিত অর্থনৈতিক পদক্ষেপের বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা সম্পর্কিত এই আইন প্রেসিডেন্টকে সীমিত পরিসরে আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দিলেও সরাসরি শুল্ক আরোপের মতো কর আরোপের ক্ষমতা দেয় না।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ৯ সদস্যের বেঞ্চে ৬–৩ ভোটে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়াকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়, যেখানে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লেখেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আইইইপিএ–তে ‘আমদানি নিয়ন্ত্রণ’ শব্দগুচ্ছের মধ্যে শুল্ক আরোপকে অন্তর্ভুক্ত করে দেখার কোনো আইনি ভিত্তি নেই, ফলে আইনের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট অতিরিক্ত ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারেন না। এই মামলাটি করে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ডেমোক্র্যাটশাসিত অঙ্গরাজ্য ও শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত নানা ব্যবসায়ী সংগঠন, যারা অভিযোগ করেছিল—ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে এককভাবে আমদানি কর বাড়িয়ে সংবিধানসম্মত ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন।

রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প এবং রায়কে ‘জাতির জন্য অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে কিছু বিচারপতিকে ‘দেশের স্বার্থের বদলে বিদেশি স্বার্থ রক্ষায় উৎসাহী’ বলেও কটাক্ষ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আদালত তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডাকে বারবার ঠেকিয়ে দিচ্ছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অন্যায় বাণিজ্যিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। রায়ের পরই তিনি ঘোষণা দেন, আইইইপিএ–র পথ বন্ধ হলেও তিনি ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২–এর আওতায় নতুন করে সব দেশের পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের বাইরে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ আরোপের জন্য নির্বাহী আদেশে সই করবেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ট্রাম্প জানান, নতুন এই ১০ শতাংশ শুল্ক বিদ্যমান শুল্কের ওপর ‘অ্যাড অন’ হিসেবে যোগ হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যেসব শুল্ক সরাসরি বাতিল হয়নি, সেগুলো আগের মতোই বহাল থাকবে। ১৯৭৪ সালের আইনের এ ধারায় সাধারণত সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে তা দীর্ঘায়িত করার পথ খোঁজা হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ‘আমি চাইলে কোনো দেশের সঙ্গে পুরো বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারি, তাদের ওপর অবরোধ জারি করতে পারি, কিন্তু সামান্য ফি বা শুল্ক বাড়াতে গেলে এত জটিলতা—এটা অযৌক্তিক।’

ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের পদক্ষেপের ফলে গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের গড় কার্যকর শুল্কহার কয়েক দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে যায়, যা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, আইইইপিএ–নির্ভর এই শুল্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগারে শত শত বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল এবং এর একটি বড় অংশ এখন ফেরত দেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্র কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয়।

এই পাল্টা শুল্ক–যুদ্ধে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশসহ কয়েকটি রপ্তানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশ। আগের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছিল, যা নতুন নীতিতে অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়ে মোট কার্যকর শুল্ককে ৫০ শতাংশের বেশি পর্যায়ে ঠেলে দেয় বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ। এর ফলে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান রপ্তানি খাতে অর্ডার কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিকল্প বাজারে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়।

পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ঘোষিত পাল্টা শুল্কের হার কিছুটা কমালেও সামগ্রিক শুল্কভার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থেকেই গেছে; আবার একাধিক ধাপে ৩৫–৩৭ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশের ঘরে নামিয়ে আনার আলোচনা চলে, যাতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা কিছুটা ফিরে পায়। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং তৈরি পোশাক–শিল্পসংক্রান্ত সংগঠনগুলো শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কনীতিকে ‘বড় ধাক্কা’ উল্লেখ করে নিয়মিত আলোচনায় ছিল।

এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়ে আইইইপিএ ভিত্তিক শুল্ক বাতিল হওয়া বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন স্বস্তির বার্তা আনতে পারে, অন্যদিকে ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক নতুন করে উদ্বেগও বাড়াচ্ছে। কারণ, তত্ত্বগতভাবে জরুরি আইনের আওতায় আরোপিত পাল্টা শুল্ক বাতিল হলে গড় শুল্কহার কমে আসার কথা থাকলেও, নতুন আইনি ধারা ব্যবহার করে বাড়তি বোঝা চাপালে অনেক ক্ষেত্রেই সেই স্বস্তি খর্ব হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবকিছু নির্ভর করবে—নতুন শুল্ক কোন আইনে, কত সময়ের জন্য, কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে এবং কত হারে প্রয়োগ করা হবে তার ওপর।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় শুধু ট্রাম্পের বর্তমান নীতি নয়, ভবিষ্যতে কোনো প্রেসিডেন্টের জন্যও জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অপব্যবহার করে একতরফা শুল্ক আরোপের পথ অনেকটা বন্ধ করে দিল। তবে একই সঙ্গে তাঁরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন কিংবা ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইনের মতো অন্যান্য ধারা ব্যবহার করে নতুন করে শুল্ক আরোপের চেষ্টা করতে পারে, যা বিশ্ববাণিজ্যে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত করবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, এখন সময় হলো দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বাংলাদেশের পক্ষে স্থিতিশীল ও তুলনামূলক কম শুল্কের একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা। তৈরি পোশাক, কৃষি পণ্য ও ওষুধের মতো প্রধান রপ্তানি খাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে বিকল্প বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য সংলাপগুলোতে এই সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগানো জরুরি বলে তাঁদের মত।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক