জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একযোগে অনুষ্ঠিত গণভোটে মোট ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। শুক্রবার সকালে ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল ঘোষণা সম্পন্ন হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক। তিনি জানান, প্রদত্ত ভোটের চূড়ান্ত হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এর আগে ভোটগ্রহণের দিন বেলা ২টা পর্যন্ত ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল আইনি জটিলতার কারণে আপাতত স্থগিত রয়েছে। এছাড়া প্রার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শেরপুর-৩ আসনের ভোট আগেই স্থগিত করা হয়েছিল।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া পরিচয়ে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ১ হাজার ২৩২ জন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সাংবিধানিক সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় ভোটারদের আগ্রহ বাড়ে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ভোটের হার বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভোট পড়ার রেকর্ড রয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। পরবর্তী বিভিন্ন নির্বাচনে এই হার ওঠানামা করেছে।
সব মিলিয়ে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণের হার মধ্যম মাত্রায় থাকলেও নির্বাচন কমিশন এটিকে সন্তোষজনক বলে বিবেচনা করছে।











