ভোট হোক উৎসব, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন নয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ
বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার এই মুহূর্তকে এক নতুন মাহেন্দ্রক্ষণে হিসেবে অভিহিত করেছেন কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি আজ ভোট দিতে গিয়ে প্রমাণ করলেন, এটি শুধুমাত্র গণতন্ত্রের উৎসব হওয়া উচিত, এবং কোনো রাজনৈতিক লড়াইকে ব্যক্তিগত আক্রোশে রূপান্তরিত হওয়া উচিত নয়।
বৃহস্পতিবার সকালে দেবিদ্বার কেন্দ্র পরিদর্শন এবং নিজে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভোট একটি উৎসবের নাম, এটি কোনো ভয়ের বিষয় নয়। জনগণ তাদের পছন্দমত ভোট দিন, তবে ভোটের কারণে আমাদের সামাজিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো অবনতি যেন না হয়।”
এছাড়া, হাসনাত আব্দুল্লাহ তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেন। এবারের নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন ভোটার রয়েছেন, যারা গত ১৫ বছরে কোনো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। তিনি জানান, “আজ তাদের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি তাদের মধ্যে এক ভিন্ন ধরনের স্বতঃস্ফূর্ততা যা দেশের গণতন্ত্রের প্রতি আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে।”
তবে নির্বাচনী মাঠে কিছু অশুভ তৎপরতার অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, কিছু অসৎ ব্যক্তিরা ভোটারদের কেন্দ্র আসতে বাধা দিতে চাপ প্রয়োগ করছেন। “ভোটারদের ভয় দেখিয়ে, এমনকি আমার বিরুদ্ধে ভোট দিলে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে,”—বলেন হাসনাত। তবে তিনি আশাবাদী, জনগণ এই ভয় উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হচ্ছে।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে রাজনৈতিকভাবে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে তরুণ নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, অন্যদিকে অভিজ্ঞ প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ এনসিপি, জামায়াত ও অন্যান্য দল নিয়ে ১১ দলের জোট গঠন করেছেন এবং তার মূল বার্তা হলো—”সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্ভয়ে ভোট দিন।” তিনি আত্মবিশ্বাসী যে এই নির্বাচনে জয়ী হবেন।
তবে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিশ্চিত করেছেন, সকাল থেকে পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি, তবে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকার অনুরোধ করেছেন যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।
তিনি আরও বলেন, “যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকে, তাহলে দেবিদ্বারের জনগণ তাদের যোগ্য নেতা নির্বাচন করবে।” তার এই “সম্প্রীতি” রাজনীতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যেখানে নির্বাচনে বিভেদ ও সংঘর্ষ সাধারণত তুঙ্গে পৌঁছে যায়।
এবারের নির্বাচনে ১ লাখ ৩০ হাজার তরুণ ভোটারের সক্রিয় অংশগ্রহণ হাসনাত আব্দুল্লাহর জন্য কী ফল বয়ে আনবে, তা সময়ই বলবে।













