আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: ভোটগ্রহণে নিরাপত্তার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা
আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ সংখ্যক মোতায়েন করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে প্রথম। এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচনী মাঠে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোন এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ভোটগ্রহণের জন্য প্রায় ৯ লাখ সদস্যের বিশাল বাহিনী মাঠে নামানো হয়েছে, যার মধ্যে ৭ লাখের বেশি সদস্য পুলিশ ও আনসারের। এছাড়া সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং বিজিবি সদস্যরাও রয়েছে। নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব বাহিনী কঠোর নজরদারি চালাবে। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশ থেকে নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রের নিরাপত্তা, এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশের কার্যক্রম তদারকি করা হবে।
ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে, যা সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচনে এবারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ। ৩৫ বছরের নিচে ভোটারদের সংখ্যা ৪ কোটি ৯০ লাখের বেশি, যা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এবারের নির্বাচনে নতুনভাবে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানো হয়েছে।
ভোটে অংশগ্রহণকারী ৫০টি দলের মধ্যে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা এই বার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, দেশে ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নিবন্ধিত রয়েছেন।
এদিকে, নির্বাচনে ২৯৯ আসনের ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে নারী প্রার্থী ৮৩ জন, যার মধ্যে ২০ জন স্বতন্ত্র এবং ৬৩ জন দলীয় প্রার্থী। এর পাশাপাশি, নির্বাচনি অপরাধের মামলায় ২৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রার্থী ও সমর্থকদের জরিমানা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৮০টি সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক ও ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক রয়েছেন। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা ইতোমধ্যে নির্বাচনি পরিবেশ তদারকি করতে বাংলাদেশে এসেছেন।













