জাজিরায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অস্ত্রসহ আটক
ছবিঃ সংগৃহীত
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মাদবরকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রের বিভিন্ন অংশসহ আটক করেছে যৌথবাহিনী। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের সদর আলী মাদবরকান্দি এলাকায় তার বসতবাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যৌথবাহিনীর পরিচালিত এ অভিযানের বিষয়ে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিশ্চিত করেন জাজিরা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আশরাফ আহমেদ। তিনি জানান, মজিবর রহমান মাদবরের কাছে অস্ত্র মজুত আছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনীর একটি দল হঠাৎ অভিযান চালায়। এ সময় ঘর তল্লাশি করে পিস্তলের কভার, পিস্তলের সিলিং, অস্ত্র পরিষ্কার করার ওয়েল ও ব্রাশ, আগ্নেয়াস্ত্রের বিভিন্ন অংশসহ চাপাতি, ছুরি ও লাঠিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় বাড়ি থেকে মজিবর রহমান মাদবরের সঙ্গে রুমা আক্তার নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে কিনা স্থানীয়ভাবে এমন প্রশ্ন উঠেছে; আটক নারীর পরিবারের দাবি, তারা বিয়ে করেছেন। এই বিষয়টি নিয়েও পৃথকভাবে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
স্থানীয়রা জানান, মজিবর রহমান মাদবর দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সালে দলীয় প্রতীক নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং স্থানীয়ভাবে বিরোধী দলীয় রাজনীতি সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে থাকেন বলে এলাকাবাসীর বক্তব্য।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, যৌথবাহিনীর অভিযানে বিকেনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানকে আটক করা হয়েছে। তার বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রের অংশগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং এসব আলামত থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক মজিবর রহমান মাদবর ও তার সঙ্গে থাকা নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
ওসি আরও জানান, অস্ত্রগুলো কী উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল, এগুলোর কোনো অংশ সম্প্রতি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, কিংবা এলাকায় কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা ছিল কিনা সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্তে আরও জড়িত ব্যক্তি আছে কি না, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।













