ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন
বৈশ্বিক দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশ ১৩তম, আগের বছর ছিল ১৪তম
বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিপ্রবণ দেশগুলোর তালিকায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৩তম। আগের বছর দেশটি ছিল ১৪তম স্থানে। জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)এ প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০২৫ প্রকাশ করে। সূচকটি ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০-এর মধ্যে ২৪ স্কোর পেয়েছে। এতে নিম্নক্রমে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম এবং উচ্চক্রম অনুযায়ী ১৫০তম।
টিআইবি মনে করছে, স্কোর এক পয়েন্ট বাড়ার পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তবে রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় সামগ্রিক অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি কমাতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য। তার মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতা ও প্রশাসনে দলীয় প্রভাব পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তিনি আরও বলেন, স্বল্প সময়ে বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা না থাকলেও অন্তত সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন জরুরি ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর ৮৯ স্কোর নিয়ে ডেনমার্ক সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ৯ স্কোর পেয়ে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের স্কোর ৩৯, পাকিস্তানের ২৮, শ্রীলঙ্কার ৩৫, নেপালের ৩৪ এবং আফগানিস্তানের ১৬। এ অঞ্চলে ভুটান সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে; তাদের স্কোর ৭১ এবং বৈশ্বিক তালিকায় অবস্থান ১৮তম।













