জার্মানিতে অভিবাসীদের জীবন আরও কঠিন
ছবিঃ সংগৃহীত
জার্মানিতে অভিবাসী, তাদের সন্তান এবং আত্মীয়স্বজনদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে—এমন মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)।
গত বুধবার প্রকাশিত জার্মানি-বিষয়ক এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশটিতে পশ্চাদমুখী অভিবাসন ও আশ্রয়নীতি, ঘৃণামূলক অপরাধের বিস্তার, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি এবং মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে একটি গভীর মানবাধিকার সংকট তৈরি হচ্ছে।
বার্লিনে এইচআরডাব্লিউ-এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে সংস্থাটির বর্ণবাদবিষয়ক গবেষক আলমাজ টেফেরা বলেন, জার্মানির মূলধারার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমেই অতি-ডানপন্থি দলের রাজনৈতিক বয়ান গ্রহণ করছে, যা উদ্বেগজনক।
তিনি বিশেষভাবে অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দলের কথা উল্লেখ করেন। এই দলটি কঠোর অভিবাসন আইন এবং সীমিত আশ্রয়নীতির পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন : পর্তুগালে মধ্যপন্থার বিজয়, সেগুরো রাষ্ট্রপতি
টেফেরা বলেন, সমাজের সমস্যার জন্য প্রথমেই অভিবাসীদের দায়ী করা অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রবণতা। যদিও তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের বক্তব্যে তথাকথিত ‘কঠোর পরিশ্রমী ও ভালো অভিবাসীদের’ সরাসরি লক্ষ্য করা হয় না, তবুও এর সামাজিক প্রভাব গভীর ও নেতিবাচক।
এদিকে, এইচআরডাব্লিউ-এর জার্মানি বিষয়ক পরিচালক ফিলিপ ফ্রিশ বলেন, দেশটির পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও নৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, পূর্ববর্তী মধ্য-বাম জোট সরকার এবং বর্তমান মধ্য-ডান সরকার—উভয়ই আন্তর্জাতিক পরিসরে জার্মানির নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে গাজা উপত্যকায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল সরকারের প্রতি জার্মান সরকারের প্রায় নিঃশর্ত সমর্থন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে জার্মানির আগের মতো প্রভাব আর নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এইচআরডাব্লিউ-এর প্রতিবেদনে জার্মান সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং অভিবাসীদের সুরক্ষা জোরদার করে।









