শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জঙ্গল সলিমপুর: বাংলাদেশের ভেতর এক ‘অঘোষিত নিষিদ্ধ রাষ্ট্র’

সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত, প্রশ্নের মুখে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব

প্রবাহ বাংলা ডেস্ক ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৪ এম
জঙ্গল সলিমপুর: বাংলাদেশের ভেতর এক ‘অঘোষিত নিষিদ্ধ রাষ্ট্র’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর—প্রকৃতির কোলে ঘেরা এক শান্ত এলাকা হওয়ার কথা ছিল যার পরিচয়। অথচ চার দশকের বেশি সময় ধরে পাহাড় কাটা, অবৈধ দখলদারিত্ব ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দাপটে এলাকাটি আজ বাংলাদেশের মানচিত্রের ভেতরেই এক ‘অঘোষিত নিষিদ্ধ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের যেকোনো উদ্যোগের জবাবে এখানে গড়ে তোলা হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ।

সোমবার সন্ধ্যায় সেই নিষিদ্ধ এলাকাতেই ফের ঝরল রক্ত। সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় র‍্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। আহত হন আরও অন্তত চারজন র‍্যাব সদস্য। এই হত্যাকাণ্ড আবারও নগর-সংলগ্ন বিশাল এক পাহাড়ি অঞ্চলে রাষ্ট্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুর ও পাশের আলীনগরের গহিন পাহাড়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় র‍্যাব-৭ এর একটি দল অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামে। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা হঠাৎ র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, হামলাকারীরা শুধু ইট-পাটকেল বা লাঠিসোঁটা নয়, আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে চারজন র‍্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিএডি মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া মারা যান। র‍্যাবের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই এলাকা আয়তনে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর। প্রশাসনিকভাবে এটি সীতাকুণ্ডের অংশ হলেও ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এটি কার্যত নগরীর সীমানায় অবস্থিত।

পূর্বে হাটহাজারী, দক্ষিণে বায়েজিদ থানা—এই ত্রিভুজ এলাকায় গড়ে উঠেছে এক দুর্ভেদ্য পাহাড়ি দুর্গ, যেখানে আইনের শাসন কার্যত অনুপস্থিত।

গত ৪০ বছরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অবৈধ বসতি। ‘ছিন্নমূল পুনর্বাসন’-এর আড়ালে গড়ে উঠেছে কোটি কোটি টাকার প্লট বাণিজ্য। এই অবৈধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছে স্থানীয় সশস্ত্র ক্যাডাররা।

এ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ প্রায় অসম্ভব। প্রতিটি প্রবেশপথে সশস্ত্র পাহারা, বাসিন্দাদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্র, বাইরের লোকের জন্য কার্যত নিষেধাজ্ঞা। এমনকি পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও এখানে প্রবেশ করতে হয় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে।

জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ অভিযান মানেই হামলা।

  • ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ওসিসহ ২০ জন আহত হন ককটেল হামলায়।
  • ২০২২ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে পরপর দুই দফা পুলিশের ওপর হামলা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকাটি দখলকে কেন্দ্র করে নতুন সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। পুরনো ও নতুন আধিপত্য বিস্তারকারী গ্রুপের মধ্যে একাধিক বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে, নিহতও হয়েছে মানুষ। পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরাও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে জঙ্গল সলিমপুর এখন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। নগরে অপরাধ করে সন্ত্রাসীরা অনায়াসেই এখানে গা ঢাকা দেয়। দিনের আলোতে পাহাড় কাটা, রাতে সশস্ত্র মহড়া—সবই চলে প্রকাশ্যে।

বিদ্যুৎ ও পানির অবৈধ সংযোগ, বন বিভাগের নির্দেশ উপেক্ষা করে অবৈধ স্থাপনা—সব মিলিয়ে প্রতি বছর কয়েকশ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয় বলে অভিযোগ, যার অংশ পৌঁছে যায় উপরমহল পর্যন্ত। ফলে উচ্ছেদ অভিযান বারবার শুরু হলেও কখনোই স্থায়ী সমাধান আসে না।

র‍্যাব কর্মকর্তার মৃত্যু পরিস্থিতিকে নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে। চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে বসেছেন। জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে বড় ধরনের সম্মিলিত অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, একটি সাময়িক অভিযান কি পারবে ৪০ বছরের এই সন্ত্রাসী সাম্রাজ্য ভেঙে দিতে?

সাধারণ মানুষের দাবি স্পষ্ট, শুধু সন্ত্রাসীদের নয়, তাদের পেছনে থাকা রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে বারবার এই পাহাড়ে রক্ত ঝরবে, আর রাষ্ট্র তার সার্বভৌমত্ব হারাবে অস্ত্রধারী দস্যুদের কাছে।

নিহত ডিএডি মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়—জঙ্গল সলিমপুরকে স্থায়ীভাবে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক