শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গণহত্যা-গৃহযুদ্ধ আর দুর্ভিক্ষে জর্জরিত সুদানে দেড় লক্ষ প্রাণহানী: কেন এই সংঘাত?

প্রবাহ বাংলা প্রতিবেদন প্রকাশিত: রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৭ পিএম
গণহত্যা-গৃহযুদ্ধ আর দুর্ভিক্ষে জর্জরিত সুদানে দেড় লক্ষ প্রাণহানী: কেন এই সংঘাত?

এই ছবিতে, দক্ষিণ সুদানের মালাকাল শহরে যুদ্ধে নিহত এক বিদ্রোহী সৈনিকের মৃতদেহ হাত বাঁধা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। (এপি ছবি)

সংকটের উৎপত্তি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

সুদানে বর্তমানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ এবং মানবিক বিপর্যয় চলছে। এই সংকটের মূল উৎপত্তি ২০১৯ সালের মধ্যেই। তিন দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ব্যাপক গণবিক্ষোভের পর সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর সামরিক ও বেসামরিক অংশগ্রহণে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। তবে সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে।

২০২১ সালের অক্টোবর মাসে সেনাবাহিনী আবার অভ্যুত্থান ঘটায়। এই অভ্যুত্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন দুই সেনা নেতা — জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান (সেনাবাহিনীর প্রধান ও দেশটির প্রেসিডেন্ট) এবং জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো (আধা-সামরিক বাহিনী RSF-এর কমান্ডার, সাধারণভাবে হেমেডটি নামে পরিচিত)।

র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের কমান্ডার জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো এবং সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। ছবি- রয়টার্স।

প্রাথমিকভাবে তারা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে উৎখাতের সময় জানজাওয়িদ মিলিশিয়া থেকেই গড়ে ওঠা দ্রুত সমর্থন বাহিনী (RSF) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। RSF-এর নেতা জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেতি), যিনি পূর্বে প্রেসিডেন্ট আল-বশিরের অনুগত ছিলেন, পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হন এবং RSF-কে একটি শক্তিশালী আধা-সামরিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

যুদ্ধ শুধুমাত্র খার্তুম বা রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিম দারফুর, কোর্ডোফান, পূর্ব সুদান এবং পোর্ট সুদান পর্যন্ত। সংঘর্ষে সোনার খনি, বন্দর এবং সীমান্ত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই বাহিনীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক শক্তি ও প্রতিবেশী দেশের সমর্থনও সংঘাতকে জটিল করে তুলেছে।

কেন সংকট এত ভয়াবহ? কারণের বিশ্লেষণ:

• দীর্ঘস্থায়ী ইতিহাস ও সামাজিক বিভাজন
সুদানের উত্তর আরব-মুসলিম অঞ্চল এবং দক্ষিণ/পশ্চিম/উপকূলীয় বিভিন্ন আফ্রিকান ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। পশ্চিম দারফুরের আগের সহিংসতা এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্যক্রম নতুন সংঘাতকে আরও ভয়ঙ্কর করেছে।

বন্দর সুদানে যাওয়ার পথে পূর্বাঞ্চলীয় শহর গেদারেফে যাত্রাবিরতির সময় সুদানের দারফুর রাজ্যের গভর্নরের সাথে একটি সামরিক কনভয়ের একটি গাড়িতে করে যোদ্ধারা চলাচল করছে।
ছবি- সংগৃহীত।

• সেনা-রাজনৈতিক কাঠামো ও ক্ষমতার বদল
RSF রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছে এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তার করেছে। সেনাবাহিনী এবং RSF-এর মধ্যে সৈন্য নিয়োগ, নেতৃত্ব এবং সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ তীব্র হয়।

• রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতা ও অর্থনৈতিক সংকট
সুদান যুদ্ধের আগে থেকেই দরিদ্র দেশ; রাষ্ট্রীয় আয় কম, সামাজিক সেবা সীমিত। যুদ্ধের ফলে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যসেবা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা দুর্ভিক্ষ ও খাদ্য নিরাপত্তার সংকট সৃষ্টি করেছে।

• মানবিক সঙ্কট ও নৃশংসতা
যুদ্ধ শুরু থেকে নৃশংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, যৌন নির্যাতন এবং গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে দারফুর অঞ্চলে। বহু মানুষ গৃহবন্দি বা গৃহচ্যুত হয়েছেন, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সুদানে ক্রমবর্ধমান সংঘাত আরও বেশি মানুষকে ক্ষুধা-দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ছবি- সংগৃহীত।

পরিস্থিতি ও মানবিক ফলাফল:

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষে সুদানজুড়ে মারা গেছে দেড় লাখের বেশি মানুষ। প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। পোর্ট সুদান, খার্তুম এবং দারফুরের শহরগুলো ধ্বংসপ্রায়। খাদ্য ঘাটতি ও দুর্ভিক্ষে মানুষ বিপন্ন। শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে আছে; ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং শিশুদের প্রতি সহিংসতা রেকর্ড করা হয়েছে।

দারফুর অঞ্চলে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উপর গণহত্যা ও জাতিগত নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। সেনাবাহিনী এবং RSF উভয়ই ব্যাপক যুদ্ধাপরাধে জড়িত বলে জাতিসংঘের তদন্তে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়েছে, স্থানান্তরিত হয়েছে এবং তাদের সামাজিক জীবন বিপন্ন।

সুদানে নিরাপদ আশ্রয়হীন অনিরাপদ শিশুরা।
ছবি- সংগৃহীত।

আগামী সম্ভাব্য দৃশ্য ও ঝুঁকি:

যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, সুদান আবারও বিভক্ত হতে পারে, যেমন ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান আলাদা দেশ হিসেবে গড়ে ওঠে। রাজনৈতিক সমাধান কঠিন, কারণ উভয় পক্ষের মধ্যে আনুগত্য, নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার বিষয় জটিলভাবে সংযুক্ত। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তির হস্তক্ষেপ সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশের উত্তর ও পূর্ব অঞ্চল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, পশ্চিম দারফুর ও এল-ফাশে RSF-এর নিয়ন্ত্রণে। সংঘাতের কারণে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন কমে গেছে; জনসংখ্যার বড় অংশ দরিদ্রতা, খাদ্য ঘাটতি এবং অসুরক্ষার মধ্যে জীবনযাপন করছে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক