তিন যুগ পর চাকসু নির্বাচন: ভোটে শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর অংশগ্রহণ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন যুগ পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই ভোট ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চাকসু ও হল সংসদের মোট ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রার্থী। এবার ভোটার তালিকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৬ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪টি আবাসিক হল ও নির্ধারিত একাধিক কেন্দ্রে ব্যালট পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।”
তবে কিছু ছাত্র সংগঠন অভিযোগ করেছে, নির্বাচনের আগে প্রচারণা ও ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় কিছু অনিয়মের আশঙ্কা দেখা গেছে। তারা দাবি করেছেন, প্রশাসন ও কমিশনের ভূমিকা আরও নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন।
ভোটের দিন সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, এত বছর পর ভোট দিতে পারা তাদের জন্য গর্বের বিষয়। এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করবে এবং ক্যাম্পাসকে রাজনীতি মুক্ত রাখবে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। এরপর নানা কারণে নির্বাচন স্থগিত ছিল। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ভোট।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিকেল শেষে ব্যালট গণনা শুরু হবে এবং রাতে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে। নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গনে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন ধারা সূচিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।










