সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

চীনের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ, নাম সানইউয়ানলি

বাংলা ভাষা, দেশীয় খাবার আর বাঙালির আড্ডায় মুখর গুয়াংজুর এই এলাকা; ক্যান্টন ফেয়ারে আসা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের অন্যতম মিলনকেন্দ্র

আহমাদুল কবির, গুয়াংজু (চীন) থেকে: প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পিএম
চীনের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ, নাম সানইউয়ানলি

চীনের ব্যস্ত নগরী গুয়াংজু। চারদিকে চীনা ভাষার কোলাহল, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের আনাগোনা। অথচ শহরের একটি এলাকায় পা রাখলেই দৃশ্যপট বদলে যায়। কানে ভেসে আসে প্রাণের ভাষা বাংলা। রাস্তার পাশে বাংলায় লেখা সাইনবোর্ড, রেস্টুরেন্টে দেশীয় খাবারের ঘ্রাণ, আর টেবিলে বসে বাঙালিদের প্রাণখোলা আড্ডা। মনে হবে, চীনে নয়, যেন বাংলাদেশের কোনো এক পরিচিত জনপদে এসে দাঁড়িয়েছেন।

এটি চীনের গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংজু শহরের সানইউয়ানলি এলাকা। বাংলাদেশিদের কাছে পরিচিত ‘সানআলী’ নামে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে এলাকাটি যেন চীনের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সানইউয়ানলির রাস্তায় হাঁটলেই চোখে পড়ে একের পর এক বাংলাদেশি খাবারের দোকান। হ্যালো বাংলাদেশ, স্টার কাবাব, রাঁধুনী, রিজিকিসহ বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায় দেশীয় খাবার। পাশাপাশি রয়েছে পোশাক, জুতা, ব্যাগ, প্রসাধনী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের পদচারণায় এলাকাটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কেউ রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাচ্ছেন, কেউ পরিচিতজনদের সঙ্গে গল্প করছেন, আবার কেউ পণ্যের দরদাম কিংবা ব্যবসায়িক যোগাযোগ নিয়ে ব্যস্ত। অচেনা দেশে পরিচিত মুখের দেখা পাওয়া, মাতৃভাষায় কথা বলা আর দেশীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ সব মিলিয়ে সানইউয়ানলি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশিদের এক অনানুষ্ঠানিক মিলনকেন্দ্র।

এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এখানে ব্যাগ, জুতা, পোশাক, প্রসাধনীসহ নানা ধরনের পণ্য দেখছেন। কেউ সরাসরি চীনা সরবরাহকারীদের সঙ্গে দরদাম করছেন, কেউ আবার পণ্য কেনার পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। পাইকারি পণ্যের বাজার হিসেবে সানইউয়ানলির পরিচিতি থাকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে এর গুরুত্বও বাড়ছে। কেনাকাটার পাশাপাশি এখানে প্রবাসীদের মধ্যে পরিচিতি, অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক তথ্য বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

দেশীয় খাবারে ঘুচে প্রবাসের দূরত্ব
সানইউয়ানলির পরিচিত বাংলাদেশি খাবারের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হ্যালো বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট। বাংলাদেশি নাগরিক রাজা ও চীনা নাগরিক মাসুদের পরিচালনায় রেস্টুরেন্টটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। গুয়াংজুতে আসা অনেক বাংলাদেশিই দুপুর কিংবা রাতের খাবারের জন্য এখানে ছুটে আসেন।
রেস্টুরেন্টটির মালিক রাজা বলেন, বিদেশে দীর্ঘদিন থাকলে স্বাভাবিকভাবেই নিজের দেশের খাবারের প্রতি আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়। বিশেষ করে ব্যবসায়িক কাজে চীনে আসা বাংলাদেশিরা দেশীয় খাবারের পাশাপাশি বাংলায় কথা বলা, পরিচিত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো এবং প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময়ের সুযোগ খোঁজেন। হ্যালো বাংলাদেশে এসে তারা সেই সুযোগ পান।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি খাবারের চাহিদা রয়েছে। তবে এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনায় নানা চ্যালেঞ্জও আছে। দোকানভাড়া, কর্মীদের বেতনসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নিয়মিত মেটাতে হয়। তারপরও বাংলাদেশিদের কাছে দেশীয় খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নিতে মালয়েশিয়া থেকে চীনে এসেছেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন তিনি। চীনে এসে স্থানীয় খাবারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে দেশীয় খাবারের খোঁজে সন্ধ্যায় চলে আসেন হ্যালো বাংলাদেশ রেস্টুরেন্টে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘চীনে আসার পর থেকে এখানকার খাবার খুব একটা খেতে পারছি না। তাই দেশীয় খাবারের খোঁজে এখানে এসেছি। রেস্টুরেন্টে এসে মনে হচ্ছে নিজের শহরে, নিজের দেশেই আছি। পরিচিত অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সত্যিই চীনের বুকে একখণ্ড বাংলাদেশ।’

মালয়েশিয়ায় নয় বছর ধরে বসবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টগুলোর তুলনায় এখানকার রেস্টুরেন্টে খাবারের মান আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে।’

তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন মালয়েশিয়া প্রবাসী সিলেটের এনাম আহমদ ইমাম। তিনিও ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নিতে চীনে এসেছেন। সানইউয়ানলিতে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও খাবারের পরিবেশের প্রশংসা করেন তিনি।

সানইউয়ানলির একটি হোটেলে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাদেশি প্রবাসী বলেন, গুয়াংজুতে বসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীর যাতায়াতের অন্যতম কেন্দ্র এই এলাকা। এখানে বাংলাদেশি ও হালাল খাবারের রেস্টুরেন্ট থাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ ছুটে আসেন।

তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির দেশে বসবাস করতে গিয়ে মানুষ নিজের দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতিকে খুব বেশি অনুভব করেন। এখানে এসে বাংলায় কথা বলা যায়, পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, দেশীয় খাবার পাওয়া যায়। কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও মনে হয় দেশের পরিবেশে ফিরে এসেছি।

তার মতে, শুধু খাবার কিংবা আড্ডাই নয়, সানইউয়ানলির অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। ব্যাগ, জুতা, পোশাক, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের বড় বাজার থাকায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। অনেকে এখান থেকে পণ্য সংগ্রহ করে নিজ দেশে পাঠান।

সব মিলিয়ে সানইউয়ানলি এখন শুধু বাংলাদেশি খাবার কিংবা পণ্যের বাজার নয়; চীনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগ, ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। হাজার মাইল দূরে থেকেও মাতৃভাষা, দেশীয় খাবার আর পরিচিত মানুষের সান্নিধ্যে এখানে যেন কিছুক্ষণের জন্য ফিরে পাওয়া যায় বাংলাদেশকে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিশ্ব অর্থনীতির নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৩৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ৩০০ কোটি ডলারের তুলনায় ১১.৫১ শতাংশ বেশি। সামগ্রিক বৈশ্বিক বাজারে দেশের মোট রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই প্রবৃদ্ধির হার চোখে পড়ার মতো।

ইপিবির তথ্যানুসারে, জুলাই থেকে অক্টোবর সময়ে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে মোট ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৮৮ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই এসেছে একক দেশ হিসেবে সর্ববৃহৎ গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে। এ ছাড়া কেবল অক্টোবর মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৭৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা বছরওয়ারি হিসাবে ১২.১০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের পণ্যের গুণগত মান, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং কমপ্লায়েন্স বজায় রাখার কারণে ক্রেতাদের এই আস্থা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান যোগ করেন, শুল্কের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ সহজ হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক এড়াতে ইউএসটিআরের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রচলিত বড় বাজারগুলোর পাশাপাশি উদীয়মান ও বিকল্প বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের পরিধি দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে তুরস্কে রপ্তানি আয় ৮২.৬৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলারে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ১৫.৫২ ও ১২.৯৩ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারগুলোতেও ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে; যেখানে ১৭৪ কোটি ডলার আয় নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য যুক্তরাজ্য এবং ১৫৭ কোটি ডলার আয় নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি। একক কোনো দেশের অর্থনৈতিক মন্দা বা নীতি পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে বাজার বহুমুখীকরণের এই প্রবণতাকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০৬ পিএম
ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবন শনাক্ত, ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, উদ্ধার সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্পবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩৩ পিএম
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি ও গ্রেপ্তারকৃত সহকর্মীদের মুক্তিসহ তিন দফা দাবিতে তৈরি পোশাকশিল্পের হাব আশুলিয়ায় আবারও রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর ও নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের একাধিক স্থানে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলন দমনে পুলিশ বাধা দিলে একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাড়ইপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা একজোট হয়ে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে निश्चিন্তপুর এলাকায় অবস্থিত ‘নিউ এইজ’ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে এসে জড়ো হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, টাউজার লাইন ও অনন্ত গার্মেন্টসসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা তাদের উৎপাদন স্থগিত রেখে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। সাধারণ ছুটির পর শ্রমিকেরা সড়ক দখল করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

এদিকে, গত রোববার নিউ এইজ কারখানার শ্রমিকদের আটকের অভিযোগ তুলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পোশাকশিল্প শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশি আটক ও হয়রানির তীব্র নিন্দা জানান। শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সহকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তোলা হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, সকালে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং রোববার এক শ্রমিককে আটকের কথা তিনি স্বীকার করেন। অন্যদিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আগের দিন ১৭৭টি কারখানা বন্ধ থাকলেও সোমবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণে ঠিক কতগুলো কারখানা চালু রাখা সম্ভব হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চল জুড়ে বাড়তি পুলিশি নজরদারি বহাল রাখা হয়েছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক