ফ্রান্সের আন্দোলনের ছায়া বার্সেলোনায়
প্লাসা কাতালুনিয়া সংলগ্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর-লুটপাট, ২৭ কিশোরসহ শতাধিক আটক
স্পেনের বার্সেলোনার প্রাণকেন্দ্র প্লাসা কাতালুনিয়ায় তরুণদের একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ রাতে আশপাশের বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালায়। লা ভানগুয়ার্দিয়ার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনায় অন্তত ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আহ্বানে বিকেল ৫টার দিকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ তরুণ প্লাসা কাতালুনিয়ায় জড়ো হন। আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার উন্নত পরিবেশ এবং প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম বিষয়। বিক্ষোভটি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ছিল না।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের দিকে পাথর ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে। রাস্তায় থাকা মোটরসাইকেল উল্টে দেওয়া, বাসের অপেক্ষাকেন্দ্রের কাচ ভাঙা, আবর্জনার পাত্র ও নগরসামগ্রীতে আগুন দেওয়া এবং অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরির ঘটনা ঘটে। কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ঢুকে মালামাল লুট করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাতালান পুলিশ মোসোস দে’স্কোয়াদ্রা ও নগর পুলিশ গুয়ার্দিয়া উরবানা অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে দমকলকর্মীরাও ঘটনাস্থলে যান।
ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এল কোর্তে ইংলেসসহ কেন্দ্রীয় এলাকার একাধিক দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেনাকাটা করতে আসা অনেক মানুষ দোকানের ভেতরে আটকা পড়েন। সন্ধ্যার পর প্লাসা উনিভার্সিতাত ও প্লাসা উরকিনাওনার মধ্যবর্তী এলাকায় চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মেট্রোরেলের কয়েকটি প্রবেশপথে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং পুলিশ নাগরিকদের সংঘর্ষপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।

লা ভানগুয়ার্দিয়ার ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক লুইস বেনভেনুতি জানান, বিক্ষোভকারীদের বড় একটি অংশ ছিল কিশোর ও তরুণ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ১৪ বছরেরও কম বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। সাংবাদিকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কিছু বয়স্ক ব্যক্তি লুটপাট সমন্বয় করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সহিংসতায় অংশ নেওয়া সব বিক্ষোভকারীর ভূমিকা এক ছিল না।

এই কর্মসূচির সঙ্গে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রভাব থাকার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। ‘ইনস্তিতুতস ইন্দিগনাতস’ নামে প্রচারিত বিক্ষোভটির নাম ফ্রান্সের ‘লাইসে ইন্দিনিয়ে’ আন্দোলনের আদলে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েকজন তরুণের মধ্যে ফরাসি ভাষায় কথোপকথন শোনা গেছে। তবে ফ্রান্সের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এই কর্মসূচির সরাসরি সাংগঠনিক সম্পর্ক নিশ্চিত হয়নি।

এদিকে প্লাসা কাতালুনিয়ায় অক্টোবরের শুরু থেকে আবাসনের অধিকারের দাবিতে চলমান তাঁবু স্থাপন কর্মসূচির আয়োজকেরা এই সহিংস বিক্ষোভে অংশ নেননি বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁরা নিজেদের কর্মসূচির সঙ্গে সংঘর্ষের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন।
কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান সালভাদর ইয়া সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভ করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভাঙচুরের কোনো অধিকার নেই। এসব ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

শনিবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় অন্তত ১০০ জন আটক হয়েছেন। তবে আহত ব্যক্তির সংখ্যা, মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তখনো প্রকাশিত হয়নি।
সূত্র: লা ভানগুয়ার্দিয়া, ক্রোনিকা গ্লোবাল ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।










