শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্য সংকট, লোহিত সাগরের উপকূল হুথিদের দখলে, সৌদি আরবের তেল পাইপলাইন বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৫ পিএম
মধ্যপ্রাচ্য সংকট, লোহিত সাগরের উপকূল হুথিদের দখলে, সৌদি আরবের তেল পাইপলাইন বন্ধ

সৌদি আরবের মদিনার দক্ষিণে অবস্থিত পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের কাছে ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে-স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির এক বড়ো ধরনের কৌশলগত মোড় দেখা গেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। একই সময়ে, ইরাক থেকে পরিচালিত ড্রোন হামলার জবাবে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি আরব তাদের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ (পূর্ব-পশ্চিম) তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।

লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের দ্রুত অগ্রগতি।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীকে তীব্র আক্রমণের মুখে কোণঠাসা করে ফেলে, হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের কৌশলগত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। গত কয়েক দিনের দ্রুত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তারা কৌশলগত বন্দর ও উপকূলীয় অবকাঠামোর দখল নেয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এই অগ্রগতির ফলে বাব আল-মানে প্রণালি ও সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল রুটের ওপর হুথিদের প্রভাব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক নৌপথে যে-কোনো ধরনের নৌ-অবরোধ বা সামুদ্রিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর ক্ষমতা সরাসরি বিদ্রোহীদের হাতে চলে গেল।

সৌদি তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা ও কার্যক্রম বন্ধ

গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে স্যাটেলাইট চিত্রে (কোপারনিকাস সেন্টিনেল-৩ দ্বারা সংগৃহীত) সৌদি আরবের মদিনা শহরের দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের কাছাকাছি এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ইরাকের ভেতর থেকে উৎক্ষেপণ করা শক্তিশালী সশস্ত্র ড্রোন এই পাইপলাইনকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছিল।

রিয়াদ অবিলম্বে পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য পাইপলাইনটি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই পাইপলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পারস্য উপসাগরীয় এলাকা থেকে অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নিয়ে যায়। এটি হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে তেল পরিবহনের একমাত্র বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

বিষয়, তথ্য বিস্তারিত

আক্রান্ত মূল অবকাঠামো সৌদি ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন।
হামলার কৌশল ইরাক ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপিত সশস্ত্র ড্রোন।

কৌশলগত ক্ষতি, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির বিকল্প মাধ্যম সাময়িক বন্ধ
বর্তমান স্থিতি সৌদি আরব কর্তৃক সতর্কতামূলকভাবে পাম্পিং বন্ধ

সৌদি আরবের কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থান

ইরাক থেকে হামলা চালানো হলেও রিয়াদ তাৎক্ষণিকভাবে বড়ো ধরনের সামরিক পালটা আক্রমণ থেকে বিরত রয়েছে। সৌদি সরকারের উচ্চপদস্থ সূত্র অনুযায়ী, তারা ইরাকি কর্তৃপক্ষকে নিজ দেশের ভূখণ্ড ব্যবহারকারী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিতে চায়।

সৌদি আরব চায় না যে এই সংঘাত আরও বড়ো আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিক, তবে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর যে-কোনো হুমকি কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

সৌদি পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

তেলের মূল্যবৃদ্ধি, অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় এশীয় ও ইউরোপীয় বাজারগুলো উদ্‌বিগ্ন।

শিপিং বিমা ও পথ পরিবর্তন, বিশ্বখ্যাত শিপিং কোম্পানিগুলো লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন খরচ বহু গুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইয়েমেন, ইরাক ও সৌদি আরবকে ঘিরে এই ত্রিমুখী যুদ্ধ পরিস্থিতি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক