শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর:

শ্রমবাজার, বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
শ্রমবাজার, বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোনে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের সূচনা করছেন বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে। আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি দেশটিতে অবস্থান করবেন।

আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়ার কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে নির্বাচন নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়; বাণিজ্য, শ্রমবাজার, শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

যদিও সফরের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা এ সফরকালে সাধারণ কর্মী নিয়োগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, সামরিক, অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের এবং আঞ্চলিক শান্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশে আশ্রয়ে থাকা আসিয়ান সদস্যদেশ মায়ানমারের নির্যাতিত নাগরিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং বন্ধ থাকা সাধারণ কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘ ও গভীর। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যে কয়েকটি দেশ দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, মালয়েশিয়া ছিল তাদের অন্যতম। ১৯৭৮ সালে মাত্র ২৩ জন বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে শ্রম অভিবাসনের যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৯২ সালে জনশক্তি নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২০০৯, ২০১৬ ও ২০২১ সালে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়া প্রায়শই হোঁচট খেয়েছে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিকভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে মালয়েশিয়া সরকার ৩১ মে ২০২৪ থেকে সাধারণ কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ১৭,৭৭৭ জন কর্মী সকল প্রক্রিয়া সম্পাদন করেও মালয়েশিয়ায় যেতে না পারার তথ্য মালয়েশিয়াকে দিলে মালয়েশিয়া যাচাই করে প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়ায় নিয়োগ সম্ভব বলে জানিয়ে দেয়। কিন্তু বোয়েসেল সূত্রে জানা গেছে এদের মধ্যে ২১০০ জন নিয়োগের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ১৮০০ জন মালয়েশিয়ায় কর্ম নিযুক্ত হয়েছে। তবে পূর্বের অনিয়মকে কেন্দ্র করে হওয়া মামলা ও আন্তর্জাতিকভাবে উত্থাপিত অভিযোগ আমলে নিয়ে সুষ্ঠু সমাধান ও পদ্ধতি নির্ধারণ করে সাধারণ কর্মী প্রেরণ বাংলাদেশ অব্যাহত রাখবে বলে মানব সম্পদ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এই কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনেক আগে থেকেই আন্তর্জাতিকভাবে মানব পাচার, অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তারা মনে করেন বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণের বিদ্যমান গতানুগতিক নিয়ম, অনিয়ম এবং মালোয়েশিয়া প্রান্তের বিষয়গুলি উভয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করে একটি উত্তম পদ্ধতি অনুসরণ করলে কর্মী নিয়োগের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে উভয় সরকার মিলে একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী টেকসই কর্মী নিয়োগ উপায় প্রতিষ্ঠা করবে যা উভয় সরকারের সুনাম বৃদ্ধি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করেন।

টেকসই ব্যবস্থা বর্তমান সরকার ঘোষিত কোটি মানুষের নিরাপদ ও স্বল্প খরচে বৈদেশিক কর্মসংস্থান লক্ষ্য অর্জনে মাইল ফলক হয়ে থাকবে। নতুন সরকারের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশী শ্রমশক্তি ব্যাপক অবদান রাখা এবং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।

মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি ডায়াসপোরাদের দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে দুবাই ও সৌদি আরবের মতো বাংলাদেশী স্কুল প্রতিষ্ঠা করা। তাছাড়াও মালয়েশিয়ায় অর্থনীতিতে অবদান রেখে যাওয়া বাংলাদেশীদের ভিসা না থাকায় বেশ ঝুঁকির মধ্যে অবস্থান করতে হচ্ছে। তারা নিয়োগকর্তা এবং বিভিন্ন কারণে ভিসা রিনিউ করতে না পারায় অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণ করার দাবিও রয়েছে প্রবাসীদের।

হাইকমিশনার সেবার আওতায় বৃদ্ধির জন্য মালয়েশিয়ার সাবা, সারাওয়াক, পেনাং, জহুর প্রদেশ এবং দূরবর্তী শহরে কনস্যুলার সেবা প্রদানের স্থায়ী দপ্তর করার দাবিও রয়েছে। বিশেষ করে সাবা ও সারাওয়াক প্রদেশ আকাশপথ ও সাগর পথ ছাড়া কোনো যোগাযোগ না থাকায় সকল ধরনের সেবা পেতে বেশ অর্থ, শ্রম ও কষ্ট হয়। তাছাড়াও বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক দপ্তর না থাকায় ঐ দুটি প্রদেশের নিয়োগকর্তারাও কর্মী নিয়োগে নিরুৎসাহিত হয়ে থাকে।

কুয়ালালামপুর থেকে সমগ্র মালয়েশিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা প্রদান এবং হাইকমিশনে এসে সেবা গ্রহণ কষ্টসাধ্য। কর্মীরা দূরদূরান্ত থেকে কুয়ালালামপুরে আসতে পারে না।

এ বিষয়ে কেলান্তান কাজ করেন নাজিম উদ্দিন একজন ভুক্তভোগী , তিনি বলেন, ” অনেক দূর থেকে কুয়ালালামপুরে বারবার আসা যাওয়া খুবই কষ্টকর। আসলেও একদিনের বেশি ছুটি মেলে না, কিন্তু লাগে কমপক্ষে তিন দিন দুই দিনের বেতন ছেড়ে দিতে হয়। তাছাড়াও কুয়ালালামপুরে থাকা খাওয়া খরচ আছে। অনলাইন পদ্ধতি ও মালয়েশীয় সরকার এর সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির সেবা নিলে খুব কম খরচে অনায়াসে আমাদের নিকট দূতাবাসের সেবা পৌঁছে দিতে পারে। আমাদের অর্থ, কষ্ট, শ্রম লাঘব হবে।”

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ৭ম বৃহত্তম বিনিয়োগ অংশীদার , টেলিকম এবং নির্মাণ খাতে বৃহৎ বিনিয়োগকে আরো বিভিন্ন দিকে সম্প্রসারণ করার সুযোগ রয়েছে বলে বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের ধারণা। অপ্রচলিত হলেও নদী ও সাগর ড্রেজিং এর ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার ড্রেজিং এর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা না থাকায় প্রতিবছর যেভাবে বন্যার শিকার হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ, পশু, ও ক্ষতি হচ্ছে ফসল ও সম্পদের সে ক্ষেত্রে জনগন ও সম্পদের সুরক্ষায় নদীগুলোর খনন এখন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। খননকৃত খাল ও নদীর পলি ও মাটি দিয়ে রাস্তা, শহর , বন্দর গড়ে তোলা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করাও সম্ভব। ইট তৈরিতে আর উর্বর কৃষি জমি নষ্ট হবে না। তাছাড়াও, প্রতিবছর দুর্যোগ মোকাবিলায় লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, অনেক আগে থেকেই মালদ্বীপ বাংলাদেশ থেকে নদী খনন করে বালি ও মাটি নিতে আগ্রহ জানিয়ে আসছে।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের আরেকটি প্রধান ক্ষেত্র হতে পারে অল্প আয়তনের জনবহুল বাংলাদেশের জমিকে রক্ষায়

মালয়েশিয়ার টানেলিং প্রযুক্তির প্রয়োগ করা। মালয়েশিয়া টানেলিং প্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম অগ্রণী দেশ, যার উত্তম দৃষ্টান্ত হলো ক্লাং ভ্যালি ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) এবং স্মার্ট টানেলের মতো মেগা-অবকাঠামো প্রকল্পগুলো। দেশটি বিশ্বের প্রথম অটোমেটিক টানেল বোরিং মেশিন (এ-টিবিএম) উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম দ্বৈত-কার্যকরী স্টর্মওয়াটার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রোড টানেল (স্মার্ট) এবং উন্নত টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) উদ্ভাবনে পথিকৃৎ হয়েছে। যাতায়াত, পানি প্রবাহ এবং সুয়োরেজ ব্যবস্থাপনায় ত্রি স্তর বিশিষ্ট টানেল যে কোনো নগরের জন্য এখন উত্তম ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। অস্ট্রেলিয়া মালয়েশিয়ার টানেল প্রযুক্তির প্রয়োগ করছে। বাংলাদেশের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর , চট্রগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে সুব্যবস্থাপনার জন্য মালয়েশিয়ার টানেল প্রযুক্তির প্রয়োগএ বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। উভয় দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন (২৮-৩০ কোটি) ডলার। ওপর দিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা পণ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৫ থেকে ২.৬ বিলিয়ন (২৫০-২৬০ কোটি) ডলার।মূলত বাংলাদেশ মালয়েশিয়া থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, পাম অয়েল, পেট্রোলিয়াম গ্যাস এবং রাসায়নিক দ্রব্যের মতো উচ্চ মূল্যের পণ্য আমদানি করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ইস্যু ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

কনজুমার পণ্য ব্যবস্থাপনা, সাপ্লাই চেইন এবং পণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মালয়েশিয়ার সুশৃঙ্খল, ব্যবসা ও জনবান্ধব ব্যবস্থাপনা যা বাংলাদেশে প্রায়োগের জন্য প্রযুক্তি, কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বৃদ্ধি করে বৃহত্তর ভোক্তার বাংলাদেশ উত্তম পণ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারে বলে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেশ অবদান রয়েছে। এমন কি বাংলাদেশি শিক্ষক ও বিজ্ঞানীদের এ ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ পদচারণা মালয়েশিয়া ও বিশ্ববীকৃত। সে সব প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে কাজ করা এবং কৃতিত্বপূর্ণ এসব বাংলাদেশী ব্যক্তিদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

 

মানব সম্পদে ভরপুর বাংলাদেশ মানব সম্পদ উন্নয়নে মালয়েশিয়াকে আহ্বান জানাতে পারে। স্কিল প্রশিক্ষণ প্রদান করে বিশ্বের যে কোনো দেশের কর্মের উপযুক্ত করে তোলে এখন সময়ের দাবী। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শিক্ষা সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও ক্রমবর্ধমান। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা দেশটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। তবে পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে চাকরি খোঁজার সুযোগ (“গ্র্যাজুয়েট পাস”) দেওয়ার মত গুরুত্বপুর্ন বিষয় রয়েছে। অন্যথায় পড়ালেখা শেষে নিজ দেশে ফেরত যেতে হয়।

হালাল বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

মালয়েশিয়ার উন্নত চিকিৎসা, আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচের কারণে মালয়েশিয়া এখন বাংলাদেশিদের জন্য একটি জনপ্রিয় মেডিকেল ট্যুরিজম গন্তব্য হয়েছে । মালয়েশিয়ার কেপিজে বাংলাদেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ করে নার্স তৈরি ও চিকিৎসা সেবায় বিনিয়োগ করেছে যা খুবই সীমিত পরিসরে। তাদেরসহ অন্যান্য সুনামের অধিকারী মালয়েশিয়ান চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে প্রযুক্তি, কারিগরি ও ব্যবস্থাপনায় যৌথ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা গেলে উভয় দেশ উপকৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা ঐতিহাসিকভাবে ব্যাক-এন্ড অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং এবং প্যাকেজিং (এটিপি)-এ তার আধিপত্যের জন্য সুপরিচিত। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

শিক্ষাবিদ ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী সফরে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক নিশ্চিত করা, সেমিকন্ডাক্টর ও আইটি খাতে দক্ষ প্রকৌশলী নিয়োগের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, স্মার্ট এগ্রিকালচার ও কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা এবং মালয়েশিয়ার শিক্ষা উন্নয়ন মডেল থেকে শিক্ষা গ্রহণ।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্টেন প্রফেসর ড. খালেদ শুকরান মনে করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদারে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গত পাঁচ দশকে শ্রমবাজার, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বহুমাত্রিক রূপ পেয়েছে। ফলে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, ভবিষ্যতের শ্রমবাজার হবে দক্ষতা-নির্ভর। তাই কনস্ট্রাকশন, ড্রাইভিং, আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। ভাষাজ্ঞান ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের প্রস্তুত করা গেলে তারা উচ্চ বেতন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সকলে প্রত্যাশা করে।

এ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক