স্পেন বিএনপির ‘একতরফা কমিটি’র বিরুদ্ধে বার্সেলোনায় কাতালোনিয়া বিএনপির প্রতিবাদ সভা
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখছেন নেতৃবৃন্দ। ছবি- সিদ্দিকুর রাহমান।
স্পেন বিএনপির ‘একতরফা ও স্বেচ্ছাচারিতামূলক কমিটি’ ঘোষণার প্রতিবাদে কাতালোনিয়া বিএনপির উদ্যোগে বার্সেলোনার একটি স্থানীয় হলে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাতালোনিয়া বিএনপির ৬ জন নেতাকে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হলেও স্পেন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গত ১৩ জুলাই হঠাৎ করেই একতরফাভাবে ৫১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করেন।
নেতাদের দাবি, আগে নির্ধারিত ৩১ সদস্যের তালিকা পাঠানো হলেও দীর্ঘদিন বিলম্ব করে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বড় আকারের কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, স্পেন বিএনপির সভাপতি প্রথমে বলেছিলেন বৃহত্তর সিলেটের সদস্য বেশি হওয়ায় কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের কিছু সক্রিয় নেতাকে যুক্ত করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে বর্ধিত ২০ জন সদস্যের মধ্যে বৃহত্তর সিলেটেরই ১০ জনকে রাখা হয়েছে। এমনকি যারা কোনোদিন বিএনপির সভায় উপস্থিত হননি, সেইসব নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদেরও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে বসানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্ধারিত যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন রশিদকে তালিকায় তৃতীয় স্থান থেকে পঞ্চম স্থানে নামানো হয়েছে এবং সক্রিয় নেতা ফয়জুল ইসলাম মাসুককে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অপমানজনকভাবে নিচের দিকে রাখা হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর তিনজন নেতা যৌথভাবে পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ১৮ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার কারণে কাতালোনিয়ার ত্যাগী নেতা এইচ এম রায়হানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা নেতাদের মতে অগণতান্ত্রিক।
সভায় বক্তারা বলেন, কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে তোষামোদ করে পদে বসছেন, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। তারা প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং চাপিয়ে দেওয়া কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
প্রতিবাদ সভার সভাপতিত্ব করেন কাতালোনিয়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার পাশা এবং পরিচালনা করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব শিপলু আহমেদ নিয়াজী। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা বশীর আহমদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হারুন রশিদ, নজরুল ইসলাম, এইচ এম রায়হান আহমেদ, শাহজাহান আহমেদ, আবু বকর মধু, আলী আসকর, নোমান আহমদ, রিপন তালুকদার, আবু তুহিন, শহীদুল ইসলাম, শরীফ উদ্দিন লিটন, ইঞ্জিনিয়ার হুসেন আহমেদ, আমির হোসেন, লুৎফুর রহমান, সুমন তালুকদার, তারেক রহমানসহ প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী।













