ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বান
সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগ ও যমুনা অঞ্চলে চলমান আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ সকলকে নিরাপদ স্থানে অবিলম্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, আন্দোলনের এই সংবেদনশীল মুহূর্তে আওয়ামী লীগ সমর্থক বা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনমুখে প্রবেশ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছে। এই ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষাপটে তারা সকল কর্মী ও সমর্থককে তাৎক্ষণিক নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিতে বলেছে। ফেসবুক পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “সবাই নিরাপদ স্থানে সরে যান”।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে শাহবাগ মোড়ে ছাত্র-জনতা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যায়। এর আগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল অঞ্চল থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে মিছিলের চেষ্টায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে যমুনা অ্যাডমিরাল্টি সামনে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কয়েকজন নেতার আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও পুলিশ ও হাসপাতাল থেকে গুলির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। এই ঘটনাবলীর মধ্যেই রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ চরম উত্তপ্ত। বিভিন্ন ধর্মঘট, বিক্ষোভ ও মিছিলের ঘটনা বাড়ছে। সরকার সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান জানালেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের এই আহ্বানকে অনেকে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সংগঠনের ফেসবুক পোস্টের পর থেকে শাহবাগ ও যমুনা এলাকায় উপস্থিতি কমে এসেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন।
এই ঘটনা সত্ত্বেও আন্দোলনের তীব্রতা কমেনি। ইনকিলাব মঞ্চ হত্যার বিচারের দাবিতে সরকারের প্রতি চাপ বাড়াতে থাকবে বলে সূত্র জানাচ্ছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের এই হস্তক্ষেপের অভিযোগের জবাবে তারা এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ এলাকায় উপস্থিতি বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীও তৈরি করা হয়েছে।












