আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে হামলা, আটক ২৬
নতুন বছরের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আকস্মিকভাবে এই হামলা চালায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ২৬ জনকে আটক করে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাব্বির, শাহিন, রিফাত ও মঈনসহ মোট ২৬ জন রয়েছেন।
দায়িত্বরত এক ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা জানান, সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিটিআরসি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার থেকেই সারাদেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে অবৈধ ও আনঅফিসিয়াল মোবাইল ফোন আর দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা যাবে না। আইএমইআই নম্বর নিবন্ধনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিটিআরসি ভবনে হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানান, এনইআইআর চালুর মাধ্যমে অবৈধ মোবাইল ফোনের বাজার বন্ধ হবে—এই আশঙ্কায় কিছু ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সহিংসতায় জড়ায়। তবে সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি হামলার পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র বা প্ররোচনাকারী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, হামলা বা ভাঙচুরের মাধ্যমে এই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও আইনসম্মত উদ্যোগ বন্ধ করা যাবে না।












