পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে ভারত
নয়াদিল্লি: ভারত তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল। দেশটি সফলভাবে একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।
পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম কে–৪ (K-4), যা পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। এটি ভারতের নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক সাবমেরিন আইএনএস আরিঘাত (INS Arighaat) থেকে বঙ্গোপসাগরে উৎক্ষেপণ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হলো। সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র পানির নিচে অবস্থান করেও দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে আগাম আঘাত হানা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সক্ষমতা ভারতের তথাকথিত ‘দ্বিতীয় আঘাত’ বা সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্ষমতা নিশ্চিত করে, যা পারমাণবিক প্রতিরোধ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেকোনো আক্রমণের পরও পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।
কে–৪ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার। এটি ব্যালিস্টিক প্রযুক্তিভিত্তিক এবং পারমাণবিক ও প্রচলিত—উভয় ধরনের যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম। এর আগে ক্ষেপণাস্ত্রটির কিছু পরীক্ষা পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম থেকে চালানো হলেও, এবার সরাসরি যুদ্ধোপযোগী সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করাকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত কার্যত তাদের পারমাণবিক ত্রিমুখী প্রতিরক্ষা কাঠামো—স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—তিন ক্ষেত্রেই নিজেদের সক্ষমতা আরও সুসংহত করল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও পরীক্ষা চালানো হবে এবং সবকিছু সন্তোষজনক হলে কে–৪ ক্ষেপণাস্ত্রকে পূর্ণাঙ্গভাবে সামরিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।










