শরিকদের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতার পথে বিএনপি, ঘোষণা হলো নতুন প্রার্থীদের নাম
সমঝোতার রাজনীতিতে আরও এগোল বিএনপি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনা কয়েকটি দলের জন্য আরও আসন ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), ইসলামী ঐক্যজোট, গণ অধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলনসহ মোট কয়েকটি দলের জন্য নতুন করে একাধিক আসনে সমঝোতা হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ আলোচনা ও যুগপৎ আন্দোলনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, বগুড়া–২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, পিরোজপুর–১ আসনে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নড়াইল–২ আসনে এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, যশোর–৫ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস এবং পটুয়াখালী–৩ আসনে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রার্থী হবেন।
এ ছাড়া ঝিনাইদহ–৪ আসনে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন, ঢাকা–১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি নির্বাচনে অংশ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, কর্নেল (অব.) অলি আহমদের দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি কুমিল্লা–৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। একইভাবে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঢাকা–১৩ আসনে প্রার্থী হবেন বলে জানান মির্জা ফখরুল।
মহাসচিব বলেন, যেসব আসনে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে, সেখানে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না। কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা বিএনপিতে যোগ দেবেন, তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন এবং যারা নিজ নিজ দলে থাকবেন, তারা নিজ দলের প্রতীকে ভোট করবেন।
তিনি আরও জানান, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
উল্লেখ্য, বিএনপি ইতোমধ্যে ২৭২টি আসনে নিজ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে। বাকি ২৮টি আসন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে এর আগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণাও দেয় দলটি।













