শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে গাজায় সেনা পাঠিয়ে কি বিপদ বাড়াবে পাকিস্তান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১:১৫ পিএম
ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে গাজায় সেনা পাঠিয়ে কি বিপদ বাড়াবে পাকিস্তান?

গাজা সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত সোমবার অনুমোদন করেছে। তবে পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পাকিস্তান এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়নি। সেদিন অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতেখার আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাবটি উত্থাপনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তান পক্ষে ভোট দিয়েছে বলেও জানান। কিন্তু তিনি একই সঙ্গে বলেন, প্রস্তাবের বেশ কয়েকটি বিষয়ে পাকিস্তান পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়, কারণ পাকিস্তানের দেয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ চূড়ান্ত খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী—আইএসএফ—গঠনের কথা বলা হয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের সেনাদের নিয়ে তৈরি হবে। এই বাহিনী গাজায় পুলিশের প্রশিক্ষণ, সীমান্ত সুরক্ষা, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং উপত্যকা অস্ত্রমুক্ত রাখাসহ বিস্তৃত দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিও তারা দেখবে। তবে কোন দেশ সেনা পাঠাবে, কীভাবে আইএসএফ পরিচালিত হবে এবং জাতিসংঘ এতে কীভাবে যুক্ত থাকবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আসিম ইফতেখার বলেছেন, প্রস্তাবটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য একটি প্রত্যাশিত পথের কথা বললেও সেই পথের কাঠামো এখনো অস্পষ্ট। তিনি আশা করেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

এ সময় পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও নতুনভাবে সামনে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। জর্ডানের বাদশাহর ইসলামাবাদ সফর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের আরব দেশ এবং মিসরে যাতায়াত, এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ—সব মিলিয়ে পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে আরও প্রভাবশালী ভূমিকা নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে বেশ প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে নিজের ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলে উল্লেখ করেছেন। বিগত কয়েক মাসে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গাজা পরিস্থিতি, সামরিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

আইএসএফে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সামনে জটিলতা রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, পাকিস্তানকে এতে অংশ নিলে সেটি গর্বের বিষয় হতে পারে। তবে তিনি পরিষ্কার করে জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত আসার আগে সংসদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলোচনা প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান গোপনে বা পর্দার আড়ালে সিদ্ধান্ত নেবে না, কারণ এ বিষয়ে দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক সংবেদনশীলতা রয়েছে। জাতিসংঘের প্রস্তাবে আইএসএফ ও গাজা প্রশাসনের কাঠামো নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় চীন ও রাশিয়া ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। অন্যদিকে হামাস প্রস্তাবের নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত শর্ত সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

আইএসএফে অংশগ্রহণের বিষয়ে পাকিস্তানের বড় রাজনৈতিক বাধা হলো ইসরায়েল নিয়ে অভ্যন্তরীণ অবস্থান। পাকিস্তান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং তাদের পাসপোর্টেও ইসরায়েল ভ্রমণ নিষিদ্ধ। ফলে ভবিষ্যতে কোনোভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের সম্ভাবনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। পাকিস্তানের কয়েকজন সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, এমন কোনো সমন্বয় জনমনে অস্বস্তি ও সন্দেহ তৈরি করবে এবং দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। যদিও কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, আইএসএফ যদি জোট বাহিনী হিসেবে গঠিত হয়, তাহলে সরাসরি পাকিস্তান–ইসরায়েল যোগাযোগের প্রয়োজন নাও হতে পারে এবং মধ্যবর্তী কোনো অংশীদার দেশ সেই দায়িত্ব নেবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে গাজার কাছাকাছি ইসরায়েলি ভূখণ্ডে একটি সিভিল–মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (সিএমসিসি) গঠনের জন্য প্রায় ২০০ সেনা পাঠিয়েছে, যাদের মধ্যে একজন জেনারেলও আছেন। এই কেন্দ্র মানবিক সহায়তা তদারকি করবে এবং ভবিষ্যতের আইএসএফ কার্যক্রমের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পাকিস্তান, আজারবাইজান ও ইন্দোনেশিয়ার নাম আইএসএফে সেনা পাঠানোর সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, আইনি কাঠামো পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা এতে যোগ দেবে না।

পাকিস্তান নিজেও বর্তমানে নিরাপত্তা–সংকটে রয়েছে। ভারতের সঙ্গে পূর্ব সীমান্তে উত্তেজনা এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে পশ্চিম সীমান্তের বিরোধের কারণে দেশটিকে সেখানে আরও বেশি সেনা মোতায়েন করতে হচ্ছে। তবুও অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের সমর্থন বজায় রাখার প্রয়োজন পাকিস্তানকে আইএসএফ নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে বাধ্য করছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পাকিস্তানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসবে।

(তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা)

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক