তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আপিল বিভাগের রায় আজ
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে আজ বৃহস্পতিবার রায় দিতে যাচ্ছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ গত ১১ নভেম্বর টানা দশ দিনের শুনানি শেষে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে ৬ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি আদালতকে জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ে সাংবিধানিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সমাজব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, “মৃত মানুষকেও ভোট দিতে দেখা গেছে—এমন অযৌক্তিক ঘটনাও জাতিকে দেখতে হয়েছে।”
গত ২৭ আগস্ট ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করে আপিল বিভাগ। এরপর সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল দায়ের করেন।
২১ অক্টোবর শুরু হওয়া আপিল শুনানি ধারাবাহিকভাবে ২২, ২৩, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর এবং ২, ৪, ৫ ও ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়। পরে ১৯৯৮ সালে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর ২০০4 সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতিকে বৈধ ঘোষণা করে।
এরপর বিষয়টি আপিল বিভাগে গড়ায়। ২০০৫ সালে রিটকারীরা আপিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদ পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দেয়। ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তা কার্যকর হয়।
সরকার পরিবর্তনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক—তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। একই সময়ে মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনও পৃথকভাবে আবেদন করেন।
এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১৬ অক্টোবর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গত বছরের ২৩ অক্টোবর পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন জমা দেন।












