শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউনূসের জাতিসংঘ সফর: উত্তপ্ত নিউইয়র্ক, পরস্পর বিরোধী কর্মসূচিতে

হাকিকুল ইসলাম খোকন প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০৪ এম
ইউনূসের জাতিসংঘ সফর: উত্তপ্ত নিউইয়র্ক, পরস্পর বিরোধী কর্মসূচিতে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘের চলতি ৮০তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে নিউইয়র্কে সরগরম অবস্থা তৈরী হয়েছে। জেএফকেস এয়ারপোর্টে তাকে স্বাগত জানানো এবং প্রতিহত করতে পরস্পর বিরোধী কর্মসূচিতে তটস্থ নিউইয়র্কের পুলিশ বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাও।

এমন অবস্থা দৃশ্যমান হয় ২১ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের অলি-গলিতে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মীর মধ্যে মারমুখো অবস্থা সামলাতে হিমসিম খায় পুলিশ। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে অঘোষিত একটি বিষয় অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে যে, তারা সহিংস হবেন না। নিজ নিজ বক্তব্য-স্লোগানের বাইরে আক্রমণাত্মক কোন আচরণ না করতেও তারা সচেষ্ট ছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে শেখ হাসিনা জাতিসংঘে আগমনের প্রাক্কালে পরস্পরের প্রতি ইট-পাটকেল, পানির বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটতো। কদিন আগে নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটের একটি সভায় তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের যোগদানকালে বাইরে আওয়ামী লীগের কর্মীরা তোলকালাম কান্ড ঘটিয়েছেন। তেমন উত্তেজনা-অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতারা বিশেষ ভ’মিকা পালন করছেন বলে অনেকের ধারণা। তবে জেএফকে এয়ারপোর্টে (স্থানীয় সময় সোমবার বেলা তিনটার দিকে) আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মসূচির জন্যে নিরাপত্তা রক্ষীরা নিরাপদ দূরত্বে দুটি স্থান চিহ্নিত করে রেখেছে বলেও জানা গেছে।খবর আইবিএননিউজ।

এদিকে, বিএনপি, যুবদল দল,শ্রমিক দল, জাসাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা ২১ সেপ্টেম্বর অপরাহ্ন থেকেই জ্যাকসন হাইটসে অবস্থান নিয়ে জেএফকে এয়ারপোর্টে মুহম্মদ ইউনূসকে সর্বাত্মকভাবে স্বাগত জানানোর সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময়ের পর এক র‌্যালিতে মিলিত হন। ঠিক একইসময়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, স্টেট আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও ইউনূসকে প্রতিহত করার স্লোগান ধরেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাংলাদেশী অধ্যুষিত এ বাণিজ্যিক এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পরস্পর-বিরোধী স্লোগানে। খবর পেয়ে পুলিশ অকুস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং পাশাপাশি দূরত্বে স্লোগান চলতে থাকে। এ সময় বিএনপির র‌্যালি থেকে সকলকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার আহবান জানান আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান, গিয়াস আহমেদ এবং গোলাম ফারুক শাহীনও এ সময় সকলকে শৃঙ্খলা রক্ষা করে মুহম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ সফরকে সাফল্যমন্ডিত করার পরিবেশ ধরে রাখার আহবান জানান।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসছেন-এ সংবাদ নিশ্চিত হবার পরই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, নিউইয়র্ক স্টেট এবং মহানগর বিএনপির নেতা-কর্মীরা সরব হয়েছেন এবং ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন জেএফকে এয়ারপোর্টে স্বাগত জানাতে। যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী এবং সেক্রেটারি আবু সাঈদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বাবরউদ্দিন, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা আতিকুর রহমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন, সেক্রেটারি আবু সাঈদসহ নেতৃবৃন্দ সরব রয়েছেন আওয়ামী লীগের যে কোন অপতৎপরতা রুখে দিতে।

অপরদিকে বাপসনিউজ প্রতিনিধি জানান: জাতিসংঘে মুহম্মদ ইউনূস আসছেন জানার পর থেকেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘যেখানে ইউনূস-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী গত কদিন থেকেই নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুতি সমাবেশের পর ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে শতশত নেতা-কর্মী জড়ো হন জ্যাকসন হাইটসে। তারা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। জেএফকে এয়ারপোর্টে তুমুল প্রতিবাদের ব্যাপারে দিক-নির্দেশনা দেন নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, শান্তিপূর্ণভাবে যতটা সম্ভব প্রতিরোধ রচনা করা হবে।

ইতিমধ্যেই এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান নেতৃবৃন্দ। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন‍্যতম যুক্তরাষ্ট্র উপদেষ্টা ড.প্রদীপ রঞ্জন কর জানান, মুহম্মদ ইউনূসের স্বরুপ আমরা বিশ্ববাসির সামনে উম্মোচনের সকল প্রস্তুতি নিয়েছি। ম্যানহাটানে যে হোটেলে তিনি অবস্থান করবেন সেখানে প্রতিদিনই অপরাহ্নে র‌্যালি হবে। গত এক বছরের ‘অপশাসন’র ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হবে। জাতিসংঘে ইউনূসের ভাষণের সময় বাইরে হাজার প্রবাসীর সমাগমের অনুমতি নেয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক কন্সুলেটের ব্যবস্থাপনায় মুহম্মদ ইউনূসকে সম্বর্ধনার যে আয়োজন ২৭ সেপ্টেম্বর করা হবে সেখানেও শতশত প্রবাসী বিক্ষোভ দেখাবেন বলে জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বহুবছর যাবত যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছি, রাজনীতির সাথে জড়িত। কিন্তু আগে কখনো কোন কন্সাল জেনারেলকে প্রবাসীদের বিরুদ্ধে সরাসরি মিথ্যাচার-মাস্তানীতে পরিণত হতে দেখিনি। বর্তমানের কন্সাল জেনারেলের অক’টনৈতিক আচরণ সকলকে ক্ষেপিয়ে তোলেছে যার শাস্তি তাকে পেতেই হবে।

মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে অংশ নিতে ওয়াশিংটন,ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, টেক্সাস, মিশিগান, ইলিনয়, বস্টন, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, কানেকটিকাট এবং কানাডা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও নিউইয়র্কে এসেছেন বলে জানালেন আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন,মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, এডভোকেট শাহ মোঃবখতিয়ার,এমএ করিম জাহাংগীরসহ নেতৃবৃন্দ জেএফকে এয়ারপোর্টে বিক্ষোভ-সমাবেশের সার্বিক সমন্বয় করছেন বলে সর্বশেষ সংবাদে জানা গেছে।

এদিকে, জেএফকে এয়ারপোর্টে মুহম্মদ ইউনূসকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তুমুল বিক্ষোভের কর্মসূচি জেনে এয়ারপোর্ট প্রশাসন নিরাপত্তার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। সকলকে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে সহায়তা দেবেন। তবে কেউ উচ্ছৃঙ্খল হলে শাস্তির আওতায় নেয়ার হুশিয়ারিও দেয়া হয়েছে।

এদিকে জানা গেছে, সফরসূচি অনুযায়ী, অধ্যাপক ইউনূস ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এছাড়া তিনি একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। ভাষণে তিনি বিগত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার তুলে ধরবেন।

সফরসঙ্গী হিসেবে ছয়জন রাজনৈতিক নেতা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রয়েছেন। তারা হলেন: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও জামায়াত নেতা নকিবুর রহমান তারেক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা।

বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, এ বছরের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে ‘হাই লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিম অ্যান্ড আদার মাইনোরিটিস ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এটি জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রথমবারের মতো এমন একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বলে দাবি করা হচ্ছে। এই বৈঠক থেকে কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনের জন্য গত মাসে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অধ্যাপক ইউনূসের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন পেয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ২৫ সেপ্টেম্বর যুবকদের জন্য কর্মপরিকল্পনার ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং মানবাধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরবেন। ভাষণে তিনি শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন, অবৈধ অর্থপাচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়ও তুলে ধরবেন। সফরকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এবং বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভা, পিসবিল্ডিং কমিশন মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক, ‘জি-৭৭ ও চীন’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, নারী-শান্তি ও নিরাপত্তা ফোকাল পয়েন্ট নেটওয়ার্ক, ওআইসি বার্ষিক সমন্বয় সভা, বিমসটেক, সিকা এবং এলডিসি মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক