মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী, এরপর যাবেন চট্টগ্রামে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৫ পিএম
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী, এরপর যাবেন চট্টগ্রামে

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে সামরিক বিমানে রওনা দিয়ে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়জুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ বিএনপি ও সরকারের অন্য নেতারা।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। পরে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন তিনি। পরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রাজশাহীর কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সীমান্ত অপরাধ দমনে কাগুজে অঙ্গীকার নয়, কার্যকর পদক্ষেপ চায় মালয়েশিয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৯ এম
সীমান্ত অপরাধ দমনে কাগুজে অঙ্গীকার নয়, কার্যকর পদক্ষেপ চায় মালয়েশিয়া

আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে শুধু চুক্তি ও অঙ্গীকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়া। সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, অর্থ পাচার, মানব পাচার এবং সহিংসতা ও চরমপন্থার হুমকি মোকাবিলায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত ও কার্যকর অভিযান জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দেশটি।

২০ অক্টোবর, ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আন্তঃসীমান্ত অপরাধবিষয়ক আসিয়ানের ২০তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে (এএমএমটিসি-২০) মালয়েশিয়ার জাতীয় বিবৃতিতে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বলেন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ধরন দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। অপরাধী চক্রগুলো ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে তাদের কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিত করছে। এ ধরনের অপরাধ কোনো একক দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৬ সালের মার্চে দেশটিতে জাতীয় সাইবার অপরাধ কেন্দ্র (এনএসআরসি) চালু করা হয়েছে। ৯৯৭ হটলাইনের মাধ্যমে কেন্দ্রটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কেন্দ্রটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ দ্রুত শনাক্ত করা এবং তা জব্দ করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া ক্রমবর্ধমান সাইবার হুমকি মোকাবিলায় বিদ্যমান আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশটির সংসদের উভয় কক্ষে সাইবার অপরাধবিষয়ক বিল পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৯৭ সালের কম্পিউটার অপরাধ আইন প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বক্তব্যে বলা হয়, অপরাধলব্ধ অর্থ কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করা সম্ভব। অথচ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সময় লাগে। এ ব্যবধান কমাতে অপরাধের অর্থ শনাক্তকরণ, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ এবং তদন্তের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠায় দেশগুলোর দ্রুত সহযোগিতা প্রয়োজন।

অবৈধ অর্থ পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণার অর্থায়ন বন্ধে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা এবং আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে মালয়েশিয়া।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (এফএটিএফ) ও এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের যৌথ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে মালয়েশিয়াকে ‘নিয়মিত অনুসরণ’ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। আইনগত, আর্থিক, অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও গোয়েন্দা তথ্যসংক্রান্ত ক্ষেত্রে দেশটির অগ্রগতির প্রতিফলন হিসেবে এই অবস্থানকে তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের এপ্রিলে কুয়ালালামপুরে অবৈধ অর্থ পাচারবিষয়ক আসিয়ান ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক আয়োজন করে মালয়েশিয়া।

এ ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া আসিয়ান সদস্যদের মধ্যে তথ্য বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানব পাচার ও সংশ্লিষ্ট আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

অনিয়মিত অভিবাসনের পথ ব্যবহার করে আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতা ঠেকাতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে মালয়েশিয়া।

এ লক্ষ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মালয়েশিয়া ঘোষণা, ২০২৬-২০৩৫ মেয়াদের আসিয়ান কর্মপরিকল্পনা এবং মালাক্কা ঘোষণার মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।

তবে এসব উদ্যোগ ও কাঠামোকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ জন্য আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সামনে তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেছে মালয়েশিয়া। এগুলো হলো, অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ অর্থপ্রবাহ ঠেকাতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা, ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণসহ তদন্তের সক্ষমতা বাড়ানো এবং সদস্যদেশ ও সহযোগী অংশীদারদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের কার্যকর সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা।

বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, আসিয়ানের সাফল্য শুধু কতগুলো চুক্তি বা সমঝোতা হয়েছে, তা দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। বরং কতটি অপরাধী চক্রের তৎপরতা বন্ধ করা গেছে, কতজন ভুক্তভোগীকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং কতজন অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি হবে সেগুলো।

মালয়েশিয়ার বক্তব্যে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক সহযোগিতার সুফল কাগজে-কলমে অঙ্গীকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এ সহযোগিতা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস্তব ভূমিকা রাখতে হবে।

বিবৃতিতে মালয়েশিয়া আসিয়ান সদস্যদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আরও নিরাপদ, সুরক্ষিত ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম অঞ্চল গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিরোধীদের নজরদারিতে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ব্যবহারের বার্তা বিপজ্জনক: হাসনাত আব্দুল্লাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ এম
বিরোধীদের নজরদারিতে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ব্যবহারের বার্তা বিপজ্জনক: হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের ইঙ্গিত বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার ফ্যাসিবাদী প্রবণতার পরিচয় বহন করে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে বিরোধী দলের ওপর নজরদারিতে ব্যবহারের কথা বলতে পারেন কি না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে, নাকি দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এনসিপির এই নেতা বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পেছনে গোয়েন্দা সংস্থা লাগিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে মৌলিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা এবং নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার নিন্দনীয়।

পোস্টে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এসব অভিযোগ তদন্তে সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না, তা জানতে চান হাসনাত আবদুল্লাহ।

এর আগে মঙ্গলবার রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী গোষ্ঠী সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের সহায়তা করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, দেশের কয়েকটি শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এ ধরনের তৎপরতা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা ও বিরোধী দলের ওপর নজরদারির প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

রিয়াদে হুতির হামলার শিকার ওমরাহযাত্রীরা ফিরছেন দেশে, নিহতের মরদেহ আসবে শুক্রবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ এম
রিয়াদে হুতির হামলার শিকার ওমরাহযাত্রীরা ফিরছেন দেশে, নিহতের মরদেহ আসবে শুক্রবার

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে তাঁদের একটি অংশের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে তাঁদের দেশে ফেরার সর্বশেষ অবস্থা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিশেষ আয়োজনের কথা জানিয়েছিল সরকার। ধর্মমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জাতীয় ইমাম পরিষদের নেতারা ও স্বজনদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তিন নম্বর টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশি নিহত হন। আহত বাংলাদেশির সংখ্যা পরবর্তী সময়ে বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়ায়। আহতদের মধ্যে ১৬ জন ওমরাহযাত্রী এবং ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি ছিলেন বলে দূতাবাসের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদে বিপাকে পড়েন কয়েক শ বাংলাদেশি যাত্রী। তাঁদের মধ্যে ইহরাম পরা ৬৭ জন ওমরাহযাত্রীকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া বাতিল হওয়া ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে দাম্মাম বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ওমরাহযাত্রী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। অপরজন বগুড়ার শাহজাহানপুরের মো. শাহেদ আহম্মেদ, যিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।

সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ আগামী ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সকালে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাঁর বকেয়া বেতন-ভাতা ও সার্ভিস বেনিফিট বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

হামলার পর আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো কাজ করছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক