সংবিধানে জুলাই ঘোষণাপত্র স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও ঘোষণাপত্রকে সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উঠেছে। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা, গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত বিচার এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিও জানিয়েছেন শহিদ পরিবারের প্রতিনিধি ও আহত জুলাই যোদ্ধারা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এসব প্রস্তাব উঠে আসে। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শহিদ পরিবারের প্রতিনিধি ও আহত জুলাই যোদ্ধারা অংশ নেন। তারা সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
অংশগ্রহণকারীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের উপযুক্ত অংশে স্থায়ীভাবে ধারণ করার প্রস্তাব দেন। জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও আইনগত জটিলতা নিরসনের পাশাপাশি তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও মতামত দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব উঠে আসে। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রাখার বিষয়েও মতামত দেওয়া হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজনীতিতে নারীদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আমন্ত্রিত অতিথিদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো কমিটির বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকের আলোচনার বাইরে কারও লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা কমিটির কাছে পাঠানোর জন্যও অনুরোধ জানানো হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সাকিলা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।













