মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

মক্কা-মদিনা ছাড়া পুরো সৌদি আরব হামলার জন্য উন্মুক্ত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ পিএম
মক্কা-মদিনা ছাড়া পুরো সৌদি আরব হামলার জন্য উন্মুক্ত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে সোমবার (৫ অক্টোবর) আবারও হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের জবাবে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে বলে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন।

হুথি সামরিক মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরটিতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিমানবন্দরের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।

এর আগে একই দিনে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয় হুথি বিদ্রোহীরা। সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘মক্কা ও মদিনার পবিত্র আকাশসীমা ব্যতীত সমগ্র সৌদি আকাশসীমা আমাদের হামলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে সৌদি আকাশসীমায় বিমান চলাচল অব্যাহত রাখলে এর ফলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায় তারা নেবে না বলেও জানায় হুথিরা।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৮ পিএম
চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চলতি মাসের শেষ দিকে চার দিনের সফরে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলি।

তিনি বলেন, ‘মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী জাপান যাবেন। সে বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে।’ তবে প্রধানমন্ত্রী কবে ঢাকা ছাড়বেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাননি তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে পারেন।

এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান। গত ১২ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও জাপানের সপ্তম পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভায় এই আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সময় জাপানের জ্যেষ্ঠ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণটি পৌঁছে দেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

একই সঙ্গে তিনি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান। এর জবাবে বাংলাদেশও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

প্রিজনভ্যান থেকে পিচ্চি রাজাকে নামিয়ে বোনের গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পিএম
প্রিজনভ্যান থেকে পিচ্চি রাজাকে নামিয়ে বোনের গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

প্রিজনভ্যান থেকে এক আসামিকে নামিয়ে তার বোনের প্রাইভেটকারে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর বংশালের প্রধান সড়কে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটের দিকে। নিম্ন আদালতের রাস্তা পার হয়ে বংশালের প্রধান সড়কে ঢোকে একটি প্রিজনভ্যান। এতে থাকা ২৯ আসামিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল।

বংশাল রোডের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে যানজটে পড়ে প্রিজনভ্যানটি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর নিজ হাতে প্রিজনভ্যানের গেট খুলে দেন। পরে তিনি মাস্ক পরে গাড়ি থেকে দুর্ধর্ষ আসামি ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা পিচ্চি রাজাকে নামিয়ে আনেন। তার সঙ্গে নামেন ক্যামব্রিয়ান স্কুল ও কলেজের মালিক খায়রুল বাসার।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রিজনভ্যান থেকে নামার পর পিচ্চি রাজা সামনে হাঁটতে থাকেন এবং তার পেছনে ছিলেন এসআই প্রবীর কুমার। অন্যদিকে খায়রুল বাসার তাদের সঙ্গে না গিয়ে প্রিজনভ্যানের সামনের দিকে চালকের পাশের আসনে উঠে বসেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য আসামিদের সঙ্গে গাদাগাদি করে না গিয়ে চালকের পাশের আসনে এসির মধ্যে বসে যাওয়ার সুযোগ তাকে এসআই ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা করে দেন।

প্রিজনভ্যান থেকে নামার পর পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রায় দুই মিনিট বংশালের মোড়ের দিকে হাঁটেন। সেখানে আগে থেকেই একটি প্রাইভেটকার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা। পরে এসআই প্রবীর নিজে গিয়ে হাজতি পিচ্চি রাজাকে ওই প্রাইভেটকারে তুলে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি যে কারণে এ রকম একটা দুর্ধর্ষ আসামিকে ছেড়ে দেয়া হলো, সেটা আরও গভীরভাবে তদন্ত করা।”

তদন্ত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার ও তার টিম আরও দুটি গুরুতর অপরাধ করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো, প্রকাশ্য সড়কে প্রিজনভ্যানের দরজা খুলে রাখা। এতে ভেতরে থাকা অন্য আসামিরাও পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন। এছাড়া হাতকড়া ছাড়াই আরেক আসামি খায়রুল বাসারকে কিছু সময়ের জন্য একা ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনিও পালিয়ে গেলে পুলিশকে আরও জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতো বলে তদন্ত সূত্র জানিয়েছে।

স্পেন | আটকে গেল আবাসন বিল

কেন আগাম নির্বাচন ডাকলেন পেদ্রো সানচেজ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২২ পিএম
কেন আগাম নির্বাচন ডাকলেন পেদ্রো সানচেজ?

স্পেনে হঠাৎ করেই সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা আসলো কেন? একটি আবাসন বিল কংগ্রেসে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্কই বা কোথায়? অনেকের কাছেই বিষয়টি প্রথমে ধোঁয়াশার মতো মনে হতে পারে। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ দেখলে বোঝা যায়, কংগ্রেসে একটি ভোটই ছিল আসলে বড় রাজনৈতিক সংকটের শেষ ধাক্কা।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ৫ অক্টোবর ঘোষণা করেছেন, আগামী ২৯ নভেম্বর ২০২৬ (N29) স্পেনে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার ঠিক তিন দিন আগে, ২ অক্টোবর, স্পেনের কংগ্রেসে সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসন-সংক্রান্ত জরুরি ডিক্রি প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপরই কার্যত বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন সানচেজ।

যে দুটি প্রস্তাব নিয়ে এত বড় সংকট

বিষয়টি ছিল স্পেনের ভয়াবহ আবাসন ও বাড়িভাড়া সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারের আনা দুটি রয়্যাল ডিক্রি-ল (Real Decreto-ley)।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এর মধ্যে ছিলো-
ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা বাড়ানো, উচ্ছেদ ঠেকানোর ব্যবস্থা এবং অস্থায়ী ও কক্ষভিত্তিক ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উচ্ছেদের সুরক্ষা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো।

এই প্রস্তাবগুলো কেন এত জরুরি? কারণ, স্পেনে বাড়িভাড়া ও বাসস্থানের খরচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ভাড়া দিতে না পারা, বাড়ি খুঁজে না পাওয়া এবং উচ্ছেদের আশঙ্কা নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছিল।

এই ক্ষোভ আরও তীব্র হয় মাদ্রিদের ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকাল (Maricarmen Abascal)-এর উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে। যে বাড়িতে তিনি প্রায় ৭০ বছর বসবাস করেছিলেন, সেখান থেকে তাকে উচ্ছেদ করার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দেয়।

অর্থাৎ, সানচেজ সরকারের কাছে আবাসন আইন দুটি ছিল শুধু আরেকটি আইন নয়, এটি ছিল সাধারণ মানুষের সবচেয়ে স্পর্শকাতর একটি সমস্যায় সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান দেখানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

তাহলে বিলটি আটকাল কীভাবে?

আসল রাজনৈতিক নাটক এখানেই। সানচেজের সরকার স্পেন সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নয়। আর তাই গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইন বা ডিক্রি পাস করাতে তাকে অন্য দলের ভোটের ওপর নির্ভর করতে হয়।

২ অক্টোবর কংগ্রেসে সরকারের আবাসন-সংক্রান্ত দুটি ডিক্রি নিয়ে ভোট হয়। শেষ পর্যন্ত পিপি (PP), ভক্স (Vox) এবং কাতালান স্বাধীনতাপন্থী দল জুনৎস (Junts), এই তিন দলই সরকারের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়।

ফলে দুটি ডিক্রি কোনটিই কংগ্রেসে টিকতে পারেনি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো জুনৎসের ভোট। কারণ, সানচেজ সরকার সংসদে টিকে থাকতে বিভিন্ন সময় জুনৎস’সহ আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু আবাসন ইস্যুতে জুনৎস সরকারের সঙ্গে একমত হয়নি।

অর্থাৎ, সানচেজ শুধু বিরোধী দল পিপি ও ভক্সের বিরোধিতার মুখে পড়েননি; যে দলগুলোর সমর্থন নিয়ে তিনি সংসদে আইন পাস করানোর চেষ্টা করছিলেন, তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও এবার পাশে দাঁড়ায়নি।

কিন্তু একটি বিল আটকালেই কি প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচন ডাকতেই হয়?

এর উত্তর হলো- না।

এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

স্পেনের নিয়ম অনুযায়ী, কংগ্রেসে কোনো একটি সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলেই প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচন ডাকতে হয় না। সরকার চাইলে অন্য আইন নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারে, নতুন প্রস্তাব আনতে পারে অথবা সংসদে অন্যভাবে সমর্থন খুঁজতে পারে।

তাহলে প্রশ্ন হলো- সানচেজ কেন নির্বাচন ডাকলেন?

কারণ, ২ অক্টোবরের ভোটটি তার সরকারের জন্য শুধু একটি আইনগত পরাজয় ছিল না, বরং এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করে গুরুত্বপূর্ণ নীতি বাস্তবায়ন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

সানচেজের সামনে তখন দুটি পথ ছিল। একটি হলো, একই ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংসদ চালিয়ে যাওয়া, অন্যটি হলো জনগণের কাছে ফিরে গিয়ে নতুন ম্যান্ডেট চাওয়া।

তিনি দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছেন।

স্পেনের সরকারি গেজেট বিওই (BOE)-তে প্রকাশিত রাজকীয় ডিক্রিতে কংগ্রেস ও সিনেট ভেঙে দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং ২৯ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাহলে সানচেজ কি বাধ্য হয়ে নির্বাচন দিয়েছেন?

তিনি বাধ্য হয়েই নির্বাচন দিয়েছেন -বলা ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, তিনি রাজনৈতিকভাবে এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছিলেন, যেখানে আগাম নির্বাচন তার কাছে অপেক্ষাকৃত ভালো বিকল্প মনে হয়েছে।

কারণ আবাসন ইস্যুতে সরকার সংসদে পরাজিত হলেও একই সময়ে এই ইস্যুতে রাস্তায় মানুষের ক্ষোভও তীব্র হয়েছে। সানচেজের শিবিরের হিসাব ছিল, আবাসন সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে একটি নির্বাচনী লড়াই তৈরি করা গেলে তার দল রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।

স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম, কাদেনা চের -এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সানচেজের ঘনিষ্ঠ মহলে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে আবাসনের অধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া সামাজিক ক্ষোভ প্রগতিশীল ভোটারদের আবার সক্রিয় করতে পারে এবং এই মুহূর্তটিই নির্বাচনের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে।
বরং নির্বাচন না ডাকলে আরো বৃহত্তর গণ আন্দোলনের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কারণ, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী পিপি জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে। ফলে নির্বাচন ডেকে সানচেজ নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবেন -এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

বিরোধীদের জন্য এটি কেন বড় সুযোগ?

পিপির কাছে কংগ্রেসে সরকারের আবাসন প্রস্তাব ঠেকানো ছিল সানচেজ সরকারের দুর্বলতা তুলে ধরার সুযোগ।

পিপির যুক্তি ছিল, শুধু ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে আবাসন সংকট সমাধান করা যাবে না; বরং নতুন বাড়ি নির্মাণ বাড়াতে হবে।

অন্যদিকে সানচেজ সরকারের বক্তব্য ছিল, বাজারকে নিয়ন্ত্রণ না করলে সাধারণ মানুষের জন্য বাসস্থান ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাবে।

অর্থাৎ নির্বাচনে এখন একটি প্রশ্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, সেটা হলো-

স্পেনের আবাসন সংকটের সমাধান কি আরও বাড়ি নির্মাণ, নাকি ভাড়া ও আবাসন বাজারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ?

এই প্রশ্নটি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর নয়, দেশের লাখ লাখ ভাড়াটিয়ার দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

নির্বাচন ডাকায় আর কী কী আটকে গেল?

আগাম নির্বাচন ঘোষণার সবচেয়ে বড় প্রভাব শুধু ক্ষমতার লড়াইয়ে নয়, সংসদে চলমান বহু আইনেও পড়েছে।

নির্বাচনের কারণে বাজেটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন ও সংস্কার প্রক্রিয়া থেমে গেছে। এর মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলোর অর্থায়ন সংস্কার, স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ, তামাকবিরোধী আইন, শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষা এবং আরও বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে।

ফলে ২ অক্টোবরের সেই ভোটের প্রভাব কেবল দুটি আবাসন ডিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।

তাহলে এখন বাস্তবতা কোথায়?

এখন বাস্তবতা হলো, সানচেজের সরকার সংসদে সংখ্যালঘু সরকারে পরিণত হয়েছে, যাকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে সংসদের বিভিন্ন দলের সমর্থন খুঁজতে হয়। আর আবাসন সংকটের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে সেই সমর্থন যখন পাওয়া গেল না, তখন সানচেজ বুঝলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া বাকি মেয়াদ পার করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সেই জায়গা থেকেই তিনি জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এখন স্পেনের রাজনীতির মাঠে বড় বিষয় হলো, ২৯ নভেম্বর স্পেনের মানুষ কি সানচেজকে আরও শক্তিশালী ম্যান্ডেট দেবে, নাকি এই ভোটে সরকার পরিবর্তনের পথ খুলে যাবে।

আর নির্বাচন পরবর্তী বিজয়ী সরকার পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত বুঝা যাবে না- স্পেনের আবাসননীতি, ভাড়াটিয়াদের অধিকার, অভিবাসন, অর্থনীতি এবং ইউরোপীয় রাজনীতিতে পরবর্তী অধ্যায়ের দিক কোন দিকে যাবে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক