অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
বার্সেলোনার ফাবরা ই পুইজ স্টেশনে ছাদ ধসে আহত ৩
বার্সেলোনার ফাবরা ই পুইজ (Fabra i Puig) রেলস্টেশনে ব্যস্ত সময়ে ছাদের একটি অংশ ধসে তিনজন আহত হওয়ার পর শহরের অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্টেশনের টিকিট গেটের ওপরের কৃত্রিম ছাদের একটি অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। আহতদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর তিনজনকেই ভায় দ্য হেব্রন (Vall d’Hebron) হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাতালোনিয়ার সিভিল প্রোটেকশন (Protecció Civil) কর্তৃপক্ষ রেল জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ফেরোকাত (Ferrocat) সতর্কতামূলক পর্যায়ে সক্রিয় করে।
অন্যদিকে, অবকাঠামোর দায়িত্বে থাকা রেনফে (Renfe) স্টেশনটি বন্ধ করে দেয় এবং মেরামতের কাজ শুরু করে। ফলে রোদালিয়েসের (Rodalies) আর-৪ (R4) লাইনের ট্রেনগুলো আপাতত ফাবরা ই পুই স্টেশনে থামছে না।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। রেনফে বিষয়টি তদন্ত করছে। রোদালিয়েসের পরিচালক অস্কার প্লায়া (Òscar Playà) জানান, দুর্ঘটনার পরপরই স্টেশন বন্ধ করে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা দল সেম (SEM)-কে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো অনুমান করতে চাননি প্লায়া। তিনি জানান, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও ফাবরা ই পুই স্টেশনে ট্রেন থামছে না। স্টেশনটি কবে আবার খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়েও এখনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
একের পর এক ঘটনায় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক
ফাবরা ই পুইয়ের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বার্সেলোনা ও আশপাশের এলাকায় একাধিক অবকাঠামোগত দুর্ঘটনা ঘটেছে।

জুলাইয়ের শুরুতে এল-৯ (L9) মেট্রো লাইনের টানেল নির্মাণকাজের সময় সান্ত গেরভাসি (Sant Gervasi) এলাকায় মাটিতে ধস নেমে বড় গর্ত তৈরি হয়। নিরাপত্তার কারণে বেশ কয়েকটি ভবন খালি করতে হয়েছিল। পরে একটি ভবনের নিচে নতুন করে গর্ত শনাক্ত হওয়ায় কয়েকটি পরিবারের বাড়িতে ফেরার বিষয়টিও দীর্ঘায়িত হয়।
এরপর মনকাদা ই রেইশাক (Montcada i Reixac) এলাকায় রেললাইন মাটির নিচে নেওয়ার কাজের সময় আরেকটি ধসের ঘটনা ঘটে। এতে রোদালিয়েসের আর-২ (R2), আর-২ নর্থ (R2 Nord) এবং আর-১১ (R11) লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
জুলাইয়ের ২৩ তারিখে প্লাসা দে সান্তস (Plaça de Sants) মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এতে আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে দুজন গুরুতর অবস্থায় ছিলেন।
এর কয়েক দিন পর এল-১ (L1) মেট্রো লাইনের গ্লোরিয়েস (Glòries) ও এল ক্লত (El Clot) স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে বৈদ্যুতিক লাইনে আগুন ধরে যায়। ধোঁয়ার কারণে ১৩৭ জনকে চিকিৎসা সহায়তা দিতে হয়েছিল এবং একটি ট্রেন খালি করে দেওয়া হয়।
পরপর এসব ঘটনার পর বার্সেলোনার গণপরিবহন ও সরকারি অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ, বিনিয়োগ এবং নির্মাণকাজের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।
জুনৎস (Junts) দলের বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিলের নেতা ও মেয়র পদপ্রার্থী জর্দি মার্তি গালবিস (Jordi Martí Galbis) ফাবরা ই পুইয়ের দুর্ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন রেনফে ও আদিফ (Adif)-এর অবকাঠামোতে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, এসকেরা রিপাবলিকানা দে কাতালুনিয়া (ERC)-এর নেত্রী এলিসেন্দা আলামানি (Elisenda Alamany) কাতালোনিয়ার অবকাঠামোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন।
তবে এসব রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে ফাবরা ই পুইয়ের দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন। রেনফের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে স্টেশনে চলমান সংস্কারকাজের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে চলতি সপ্তাহে শুরু হওয়া কাজগুলো মূলত মেঝের অংশ নিয়ে হওয়ায় প্রাথমিকভাবে এর সঙ্গে ছাদ ধসের সরাসরি সম্পর্ক থাকার কথা নয় বলে জানিয়েছেন রোদালিয়েসের পরিচালক।
তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং স্টেশনটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।










