শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সেগা দেল আররোস

স্পেনে ঐতিহাসিক ধান কাটার নবান্ন উৎসব

মিরন নাজমুল বার্সেলোনা প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
স্পেনে ঐতিহাসিক ধান কাটার নবান্ন উৎসব

হেমন্ত আসলেই বাংলাদেশে যেমন ধান কাটা শুরু হয়, চরাচরে কৃষক-কৃষাণী ব্যস্ত হয়ে পড়েন ধান তোলার কাজে। ঠিক তেমনি স্পেনের অতীত ঐতিহ্যে ছিলো সুন্দর কৃষিজীবন। এব্রো নদীর পাড় ঘিরে পলি পড়া চাষ জমিতে সোনালী ধানের চাষ হতো। এখনো সেখানে কৃষি কাজ হয়, ধান ফলায় কৃষকরা। সময়ের সাথে সেটা অনেক কমে এসেছে, আবহ পরিবর্তন হয়েছে, আধুনিক হয়েছে কৃষি সারঞ্জাম। তবে সেই সোনালী অতীতকে মনে করতে এখনো উৎসবের আয়োজন করে দেশটি।

তারই অংশ হিসেবে কাতালোনিয়ার ডেল্টা দে ল’এব্রোতেও ধান কাটার সময়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও উৎসব। সেই ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে তুলতেই আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর লা রাপিতায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ফেস্তা দে লা সেগা দে ল’আরোস’—ঐতিহ্যবাহী ধান কাটার নবান্ন উৎসব।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কাতালোনিয়ার ডেল্টা দে ল’এব্রোর বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও ধানক্ষেত ঘিরে গড়ে ওঠা এই কৃষি ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু প্রজন্মের মানুষের জীবন, শ্রম ও সংস্কৃতি। আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার শুরুর আগে কৃষকেরা কীভাবে হাতে হাতে ধান কাটতেন, সেই পুরোনো পদ্ধতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আগামী শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর লা রাপিতার রোতুলা দেলতা এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে এবারের মূল আয়োজন। ভিয়া ভের্দে ও মার দে ল’এব্রে জাদুঘরের কাছাকাছি এই স্থানে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে ঐতিহ্যবাহী ধান কাটার প্রদর্শনী। দর্শনার্থীরা শুধু এই কৃষিকাজ দেখার সুযোগই পাবেন না, বরং আয়োজকদের ব্যবস্থাপনায় ঐতিহ্যবাহী ধান কাটার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকবে।

উৎসবটি সব বয়সী মানুষের জন্য উন্মুক্ত। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটক ও পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীরাও এতে অংশ নিতে পারবেন। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এটি হতে পারে কাতালোনিয়ার কৃষি ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানার একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

মাঠ থেকে খাবারের টেবিলে:
ধান কাটার ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় খাবারের আয়োজনও। দুপুর ১টার পর থাকবে বিশেষ সংহতি-ভিত্তিক চালের খাবারের আয়োজন। মাত্র ৫ ইউরোর বিনিময়ে পাওয়া যাবে এক পরিবেশন চালের খাবার, এক বোতল পানি এবং একটি ঐতিহ্যবাহী পাস্তিসেত।

এই খাবারের পুরো অর্থ দান করা হবে প্রজেক্টে এম্মা-কে, যা ক্যান্সার গবেষণায় সহায়তা করে। তবে এই খাবারের আয়োজনে অংশ নিতে হলে আগাম রিজার্ভেশন করতে হবে।

উৎসবকে ঘিরে থাকবে সংগীত ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক আয়োজনও। ফলে ধান কাটার পুরোনো কৃষিপদ্ধতি দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ধানচাষের ঐতিহ্য ধরে রাখার আয়োজন:
ডেল্টা দে ল’এব্রোর কৃষি সংস্কৃতিতে ধান একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানকার ঐতিহ্যবাহী ধানচাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বছরের বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষিকাজ। ধান রোপণ থেকে শুরু করে ফসল কাটা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে নানা রীতি ও উৎসব।

এর মধ্যে ‘প্লান্তাদা’ হলো ধানের চারা রোপণের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন, আর ‘সেগা’ হলো ধান কাটার উৎসব। অর্থাৎ ১৯ সেপ্টেম্বরের লা রাপিতার আয়োজনটি মূলত সেই কৃষি-চক্রের ফসল কাটার পর্যায়কে সামনে নিয়ে আসে।

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কারণে মাঠে কাজের ধরন বদলে গেলেও এই উৎসবের মাধ্যমে পুরোনো কৃষিপদ্ধতি, কৃষকের শ্রম এবং ধানচাষকে ঘিরে গড়ে ওঠা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।

ডেল্টাজুড়ে ‘সেগা’ উৎসব:
লা রাপিতার এই আয়োজনটি একক কোনো উৎসব নয়। ডেল্টা দে ল’এব্রোর বিভিন্ন শহর ও গ্রামে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘সেগা’ উৎসব।

২০২৬ সালের আয়োজনের মধ্যে সান্ত জাউমে দ’এনভেজা, দেলতেব্রে, লা রাপিতা, ল’আমপোল্লা, কামার্লেস, ল’আলদেয়া ও আম্পোস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটার ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে পৃথক অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে।

এই ধারাবাহিক আয়োজনকে ‘রুতা দে লা সেগা’ বা ধান কাটার ঐতিহ্যবাহী পথ হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পুরো ডেল্টা অঞ্চলের কৃষি, সংস্কৃতি, স্থানীয় খাবার ও ঐতিহ্যকে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

ধানকে ঘিরে নবান্নের আয়োজন:
ধান কাটার উৎসবের পাশাপাশি ডেল্টা দে ল’এব্রোতে চলছে চালভিত্তিক বিশেষ খাদ্য উৎসবও। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত লা রাপিতা, দেলতেব্রে, আম্পোস্তা ও ল’আমপোল্লার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ডেল্টার চাল দিয়ে বিশেষ মেনু পরিবেশন করা হচ্ছে।

ফলে সেপ্টেম্বরের এই সময়টিতে ডেল্টা দে ল’এব্রো ভ্রমণ করলে একই সঙ্গে দেখা যাবে ধান কাটার ঐতিহ্য, উপভোগ করা যাবে স্থানীয় সংস্কৃতি এবং স্বাদ নেওয়া যাবে এই অঞ্চলের বিখ্যাত চালের তৈরি খাবার।

দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-

অনুষ্ঠান: ফেস্তা দে লা সেগা দে ল’আরোস- ঐতিহ্যবাহী ধান কাটার উৎসব
তারিখ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময়: সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা
স্থান: রোতুলা দেলতা, লা রাপিতা
কাছাকাছি: ভিয়া ভের্দে ও মার দে ল’এব্রে জাদুঘর
প্রবেশ: মূল অনুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত
অংশগ্রহণ: ঐতিহ্যবাহী ধান কাটার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ
দুপুরের খাবার: দুপুর ১টার পর
মূল্য: ৫ ইউরো
খাবারের সঙ্গে: চালের খাবার, পানি ও পাস্তিসেত
উপার্জনের পুরো অর্থ: প্রজেক্টে এম্মা ক্যান্সার গবেষণায় খরচ করা হবে
খাবারের জন্য: আগাম রিজার্ভেশনের প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে হলেও ধানকে ঘিরে কাতালোনিয়ার এই আয়োজনের মধ্যে তাই খুঁজে পাওয়া যায় বাংলাদেশের মানুষের কাছেও পরিচিত এক আবেগ মাটি, কৃষক আর ফসলের সম্পর্ক। সময় বদলেছে, কৃষির পদ্ধতি বদলেছে; কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আনন্দ আর সেই কৃষিজীবনের স্মৃতি এখনো মানুষের সংস্কৃতিতে বেঁচে আছে। লা রাপিতার ‘সেগা’ উৎসব সেই স্মৃতিকেই নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি প্রয়াস।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক