শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সেউতায় অভিবাসী ঢল: আগাম সতর্কবার্তা পেয়েও কি ব্যবস্থা নেয়নি স্পেন?

স্পেন প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
সেউতায় অভিবাসী ঢল: আগাম সতর্কবার্তা পেয়েও কি ব্যবস্থা নেয়নি স্পেন?

২০২৬ সালের ৩১শে জুলাই, কয়েক ডজন অভিবাসী মরক্কো থেকে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করছে। ছবি- ইউরোপা প্রেস

স্পেনের সেউতায় জুলাইয়ের শেষ দিকে ঘটে যাওয়া ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় এখন শুধু মরক্কোর ভূমিকা নয়, স্পেনের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দেশটির জাতীয় আদালতের তদন্তে সামনে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- এত বড় আকারের প্রবেশের পরিকল্পনা কারা করেছিল এবং স্পেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগেই সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নিয়েছিল?

মামলাটির তদন্ত করছেন জাতীয় আদালতের বিচারক মারিয়া তারদোন। তাঁর হাতে এখন দুটি আলাদা তদন্তের সূত্র। একটি হলো সেউতায় ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পেছনে কারা ছিল, তা খুঁজে বের করা। অন্যটি হলো- স্পেনের ভূখণ্ডে থাকা কর্তৃপক্ষের কাছে আগে থেকেই কোনো সতর্কবার্তা ছিল কি না এবং থাকলে তারা সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছিল কি না।

তদন্তের দ্বিতীয় দিকটি ইতোমধ্যে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রকাশ করা সরকারি নথি অনুযায়ী, স্পেনের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিএনআই ২৯ জুলাই সতর্ক করেছিল যে পরদিন সেউতায় ব্যাপকভাবে প্রবেশের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চলছে। দুটি ফেসবুক গ্রুপে এ ধরনের আহ্বান জানানো হচ্ছিল, যেগুলোর সম্মিলিত অনুসারী ছিল প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার।

সিএনআই এই তথ্য শুধু স্পেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নয়, মরক্কোর গোয়েন্দা সংস্থা, সেউতায় সরকারের প্রতিনিধি এবং স্পেনের সিভিল গার্ডকেও জানিয়েছিল।

তাহলে প্রশ্ন উঠছে- সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কী হয়েছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে এসেছে সেউতায় সরকারি প্রতিনিধির কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তিনি সিএনআইয়ের সতর্কবার্তাটি সরকারি প্রতিনিধি মিগেল আনহেল পেরেস ত্রিয়ানোকে পাঠিয়েছিলেন। তবে ত্রিয়ানো তা অস্বীকার করেছেন।

এই বিরোধ মেটাতে দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, গোয়েন্দা তথ্যটি শেষ পর্যন্ত কার কাছে পৌঁছেছিল এবং সরকারের কোন পর্যায় পর্যন্ত সেই সতর্কবার্তা গিয়েছিল।

যদি প্রমাণ হয়, সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা ব্যাপক প্রবেশের আশঙ্কা সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন, কিন্তু তা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ উঠতে পারে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে এমন কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

অন্যদিকে, ঘটনার পরিকল্পনার পেছনে মরক্কোর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

বিচারক তারদোনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল বলে ধারণা করা হয়েছে। তবে এর পেছনে প্রচলিত মানবপাচারকারী চক্রকে দায়ী করার মতো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বিচারকের মতে, ওই অঞ্চলে সক্রিয় কোনো অপরাধী সংগঠনের এত বড় আকারের অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা নেই।

বরং তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, মরক্কোর ভূখণ্ড থেকেই পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ করে দেওয়া হয়েছিল। সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর একাংশের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ বা অভিবাসীদের অগ্রযাত্রায় বাধা না দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এখানেই তদন্তের সবচেয়ে বড় বাধা- মরক্কো।

স্পেনের আদালত চাইলে মরক্কোর সীমান্তরক্ষীদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসীদের ঢলের দিকে সংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থাকা বেসামরিক ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য চাইতে পারে। কিন্তু এসব তথ্য পেতে হলে মরক্কোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্পেনের সরকারি কৌঁসুলিরা আশা করছেন, রাবাত তদন্তে বাধা দেবে না। তবে কয়েকজন আইনজীবীর আশঙ্কা, মরক্কো এ ধরনের সহযোগিতায় রাজি নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তদন্তের এই অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে ঘটনাটির সঙ্গে আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হয়েছে। মামলাটি সংগঠিত অপরাধের পাশাপাশি রাষ্ট্রের শান্তি বা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অপরাধের একটি বিরল আইনি ধারার আওতায়ও এগোচ্ছে। স্পেনের ফৌজদারি আইনের এই ধারা খুব কম ব্যবহৃত হয়েছে এবং এ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার নজিরও নেই।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে উঠেছে মৃত্যুর সংখ্যা।

স্পেনের জলসীমা থেকে এখন পর্যন্ত ৮৩ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে বিচারক বিদেশি নাগরিকদের অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃত হত্যার সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় এনেছেন।

ফলে সেউতার এই ঘটনা এখন কেবল একটি সীমান্ত বা অভিবাসন সংকটের তদন্তে সীমাবদ্ধ নেই। একদিকে তদন্তকারীরা খুঁজছেন, মরক্কোর ভূখণ্ড থেকে এত বড় একটি প্রবেশ কীভাবে সম্ভব হলো। অন্যদিকে স্পেনের হাতে থাকা আগাম সতর্কবার্তা কেন এবং কীভাবে কার্যকর হলো না- সেটিও সামনে আসছে।

তদন্ত যত এগোবে, সেউতার সেই রাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হয়তো আরও স্পষ্ট হবে- এটি কি শুধু সীমান্তে হঠাৎ তৈরি হওয়া অভিবাসী ঢল ছিল, নাকি আগে থেকেই জানা একটি সংকটকে যথাসময়ে ঠেকানো সম্ভব ছিল?

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক